
এগ্রিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বাংলাদেশের মৎস্য ও পোল্ট্রি খাদ্যশিল্পে উৎপাদিত ফিডের বাজার সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ স্থলসীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে রপ্তানি হচ্ছে এসবি ফিস ফিড মিলসের উৎপাদিত ফিড। দেশের বাজারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের বাজারে প্রবেশের এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের ফিডশিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসবি ফিস ফিড মিলস, এসবি গ্রুপের ফিড ব্যবসার অংশ। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত ফিডের মধ্যে মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য রয়েছে। ২০২০ সালের সরকারি আমদানি-সংক্রান্ত নথিতেও S.B. Poultry & Fish Feed Mills, জশ্বর বাজার, শিবপুর, নরসিংদীর নামে ফিড উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ও প্রিমিক্স আমদানির তথ্য পাওয়া যায়। ওই নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ফিড উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল হিসেবে লাইমস্টোন, মনোক্যালসিয়াম ফসফেট এবং ব্রয়লার ও লেয়ার প্রিমিক্সের আমদানির তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
ফিডশিল্পে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকুয়াকালচার ফিডের ক্ষেত্রে ভারী ধাতু, মাইকোটক্সিন, ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক, অননুমোদিত রং ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের জন্য নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। মাছের খাদ্যে সীসা, পারদ, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম ও বিভিন্ন মাইকোটক্সিনের মতো উপাদানের গ্রহণযোগ্য মাত্রাও নির্ধারিত রয়েছে।
এসবি গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ আজহারুল ইসলাম আজহার বলেন, “এসবি ফিডের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। এ কারণেই খামারিদের কাছে আমাদের ফিডের চাহিদা রয়েছে। খামারিদের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ফিডের মান আরও উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছি। গুণগত মান বজায় রাখা এবং পণ্যের উৎকর্ষ সাধনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, “এসবি ফিডের মান ও গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এ ফিডের চাহিদা বাড়বে। মিয়ানমারে রপ্তানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ফিডপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করতে হলে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেই হয় না; পণ্যের ধারাবাহিক গুণগত মান, নিরাপত্তা, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, সঠিক প্যাকেজিং এবং আমদানিকারক দেশের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বাংলাদেশের ফিড উৎপাদনকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগও তৈরি করতে পারে।
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে এসবি ফিডের রপ্তানি ভৌগোলিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ব্যবহার করে নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে মিয়ানমারের পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক বাজারেও বাংলাদেশি ফিডপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যে রূপ দিতে হলে রপ্তানি চালানের ধারাবাহিকতা, পণ্যের মান বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক ও আমদানিকারক দেশের মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে পারলে এসবি ফিস ফিড মিলসের মিয়ানমার রপ্তানি দেশের ফিডশিল্পের জন্য একটি কার্যকর রপ্তানি মডেল হয়ে উঠতে পারে।
ফিডশিল্পের রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য শুধু নতুন বাজার তৈরির সুযোগ নয়; এটি স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি করে। সেই বিবেচনায় মিয়ানমারের বাজারে এসবি ফিডের প্রবেশ বাংলাদেশের ফিডশিল্পের আন্তর্জাতিকীকরণের পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

