Tuesday 9th of August 2022
Home / অন্যান্য / শেকৃবি’র ড. ভূঁইয়া পেলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার (স্বর্ণপদক)

শেকৃবি’র ড. ভূঁইয়া পেলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার (স্বর্ণপদক)

Published at জুলাই ১৮, ২০১৭

sohidur01শেকৃবি প্রতিবেদক : শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া-এর কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্বুদ্ধকরণে প্রকাশনা ও  প্রচারমূলক কাজের মাধ্যমে কৃষিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ২০১৪ বঙ্গাব্দের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার (স্বর্ণপদক) লাভ করেন। ১৬ জুলাই, রবিবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে এ পদক প্রদান করেন।

ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া একজন প্রথিতযশা শিক্ষক, গবেষক, উদ্ভাবক, লেখক ও পেশাজীবি সংগঠক। তিনি ১৯৮৩ সনে ঢাকাস্থ তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটে জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০১ সনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ১৯৯০ সন থেকে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। বিজ্ঞান, বিশেষ করে কৃষি বিজ্ঞান, বিষয়ে তাঁর লেখালেখি এরপর থেকে আর কখনো থামেনি। বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি তিনি কৃষি ও বিজ্ঞানের  প্রাগ্রসর ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান পত্রিকাসহ জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ রচনা করে যেতে থাকেন। তিনি গ্রন্থের অনুবাদ, গ্রন্থের অধ্যায় রচনা, জার্নাল সম্পাদনা ও সেমিনার এবং কনফারেন্স প্রসিডিংস সহ-সম্পাদনা করেন। তিনি নিয়মিত কৃষির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ ও নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বাংলাদেশে প্রথম উদ্ভিদ প্রজনন বিষয়ের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন যা বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯২ সনে প্রকাশিত হয়। এটি এ দেশের ছাত্র ছাত্রী, বিজ্ঞানী, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই  সমাদৃত হয়। বেশ কয়েকবার বইটি পুন:মুদ্রিত হয়েছে। দু’বার গ্রন্থটির সংস্করণও করা হয়েছে। তিনি ফসল উন্নয়ন কর্মকা-ের নানা বিষয় নিয়ে মোট ১৬টি গ্রন্থের লেখক। তাঁর রচিত ও প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো- কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন শব্দকোষ (২০০১), উদ্ভিদ প্রজনন ও বিবর্তন (২০০৬), জেনেটিক্যালী মডিফাইড ফসল-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ (২০০৮), ফসলের উন্নয়ন-বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (২০০৯), জীব প্রযুক্তি (২০১০), ধান-উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত (২০১২), ফসল উন্নয়ন ও প্রযুক্তি (২০১২), পুষ্পকথা (২০১৩), ফসল ও মানুষ (২০১৪), খাদ্য ও পুষ্টি ভাবনা (২০১৪), ফসল কৃষি নানা ভাবনা (২০১৪), ফসলের জীববৈচিত্র্য ও জিন সম্পদ (২০১৫), বংশগতিবিদ্যার জনক- গ্রেগর যোহান মেন্ডেল (২০১৬), Plant Tissue Culture (২০০৮, সহ-লেখক) ও বিজ্ঞানের কথা নিজের কথা (২০১৭)। তাঁর সহ-সম্পাদিত অনুবাদ গ্রন্থ হলো – হাইব্রিড ধান উৎপাদন প্রযুক্তি (২০০০) এবং তাঁর দুটি অধ্যায় সংযোজিত গ্রন্থ হলো-কৃষি সাংবাদিকতা (২০১২)।

তাঁর প্রকাশিত জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ক বিজ্ঞান প্রবন্ধের সংখ্যা ১৯১টি। ফসলের বিবর্তন, জিন সম্পদ, ফসলের স্থানীয় জাত, ফসল প্রযুক্তি, ফসল উন্নয়ন কৌশল, হাইব্রিড জাত, জিএমও, খাদ্য ও পুষ্টি, ফুলের নান্দনিক প্রসঙ্গ, ফল, জীবপ্রযুক্তি, জীন প্রকৌশল, কৃষি জীববৈচিত্র্য, মেধাস্বত্ব এসব বিষয়ে তার লেখালেখি সবচেয়ে বেশি। তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধ বিজ্ঞান পত্রিকার লীড প্রবন্ধ হিসেবে ছাপা হয়েছে। এসব প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছেÑ ট্রিটিক্যাল -নব উদ্ভাবিত সার্থক ফসল (কৃষি কথা), ভোজ্যতেলের নিম্নমান বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি (ফার্মহাউজ), দেশি জাতের ধানের নাম বৈচিত্র্য (কৃষি কথা), কৃষিতে রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োগ: প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (উর্বরা), কাসাভা পোল্ট্রির বিকল্প শক্তির সম্ভাবনাময় উৎস (ফার্মহাউজ), হাইব্রিড ধানের সমস্যা ও উত্তরণের উপায় (কৃষি কথা), গ্রীন সুপার ধান (কৃষি বার্তা), আসছে গোল আলুর জিএম জাত (নবীন বিজ্ঞানী), প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন (কৃষিবিদ), বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস গবেষণা (নবীন বিজ্ঞানী), কৃষিশ্রম: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ (ফার্মহাউজ), হাইব্রিড ভুট্টার জয়জয়কার (কৃষি কথা), চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বাংলাদেশের কৃষি (উর্বরা), ক্যানোলা-ভোজ্য তেলের উত্তম উৎস (ফার্মহাউজ), ফুলের রানির কথা (কৃষি কথা), পুষ্টির ওপর জোর বাড়ান, ভাতের ওপর চাপ কমান (ফার্মহাউজ), জিএম ফসলের আদ্যোপান্ত: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ (ফার্মহাউজ), পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র দূরীকরণে সবজি চাষ (কৃষি কথা), কৃষিতে মেধাস্বত্ত্ব ও আমাদের প্রস্তুতি (ফার্মহাউজ) ইত্যাদি।

তিনি মূলত একজন প্ল্যান্ট ব্রিডার। সরিষা নিয়ে তিনি গত বিশ বছর ধরে গবেষণা করে আসছেন। তাঁর গবেষণার ফলশ্রুতিতে এসএইউ সরিষা-১ (২০০৬), এসএইউ সরিষা-২ (২০০৮) এবং এসএইউ সরিষা-৩ (২০১৪) নামে তিনটি সরিষা জাত উদ্ভাবন করেছেন যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক যথারীতি নিবন্ধিত হয়েছে এবং কৃষকের নিকট চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। গত দশ বছর ধরে তিনি ধান উন্নয়ন গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ধানের জাত অবমুক্তির লক্ষ্যে সম্ভামনাময় একাধিক প্রাগ্রসর লাইনের উটঝ টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি ২০১৩ সনে বাংলাদেশ কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন সমিতির পক্ষ থেকে প্ল্যান্ট ব্রিডিং-এর ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদান রাখার জন্য “প্ল্যান্ট ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড” অর্জন করেন। ২০১৫ সনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কৃষি প্রকাশনার মাধ্যমে কৃষি শিক্ষায় গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন এবং কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে সচেনতা সৃষ্টি ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিতকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় তাঁকে  “কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কৃষি পদক ২০১৫” প্রদান করে। কৃষি শিক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, কৃষি প্রকাশণার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ একাডেমী অব এগ্রিকালচার পক্ষ থেকে ২০১৬ সালে ড. ভূঁইয়াকে “ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা  ট্রাষ্ট ফান্ড গোল্ড মেডেল” প্রদান করা হয়।

উচ্চতর শিক্ষা, গবেষণা ও  একজন বিজ্ঞান কর্মী হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালী, ডেনমার্ক, জাপান, চীন, ভারত, নেপাল ইত্যাদি। তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষির বহু ছাত্র-ছাত্রী এম.এস ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছে।

This post has already been read 3188 times!