৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৪ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯
শিরোনাম :

লোকসান কাটিয়ে লাভে খালিশপুর জুটমিল

khalispur jute millফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা):
লাভের মুখ দেখছে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব খালিশপুর জুট মিল। বিগত বছরের তুলনায় উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে প্রায় ৩ কোটি টাকার পূঞ্জিভুত লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছে মিলটি। বিগত দিনে যেখানে মিলের দৈনিক উৎপাদন ছিল ২৫ থেকে ২৬ মেট্রিক টন সেখানে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ মেট্রিক টন।

পূর্বের লোকসান কাটিয়ে চলতি অর্থ বছরের মে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং জুন মাসে এক লাখ টাকা লাভ করেছে মিলটি। আর এই লাভের সাথে রয়েছে মিলের সকল পর্যায়ের শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম। মিলে কর্মরত শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরী ও কর্মকর্তাদের মাসিক বেতন বকেয়া থাকা সত্বেও  মিলের বর্তমান প্রকল্প প্রধানের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সকল স্থরের কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেস্টায় কারণে মিলটি লাভজনক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরী সপ্তাহে পরিশোধ ও পার্শ্ববর্তী মিলের শ্রমিকদের ন্যায় মজুরি প্রদান করা হলে খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বৈষম্য দূর হবে । এ সময় তিনি স্বীকার করেন যে, মিলের শ্রমিকদের মাঝে মজুরি বৈষম্যের কারণে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। মজুরি বৈষম্য দূর করা হলে মিলটি আরো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে এবং দেশের একটি মডেল জুট মিলে রুপান্তর হবে খালিশপুর জুট মিল।

মিল সূত্রে জানা যায়, নগরীর খালিশপুর ভৈরব নদের তীরে ১৯৫২ সালে ৭০ দশমিক ৩০ একর জমিতে পিপলস জুট মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মিলটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় ১৯৫৪ সনে। ১৯৭২ সনে মিলটি বিজেএমসি’র আওতায় আসে। ২০০৭ সনের ৩১ জুলাই প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা দেনার দায়ে তৎকালীন ১/১১ সরকার পিপলস্ জুট মিলটি বন্ধ ঘোষণা করেন।

এরপর তৎকালীন সরকার মিলটিকে পূণরায় বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। উদ্যোগ গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০০৮ সনের ৭ জুলাই বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজী ফার্মস মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদনে যায়। তবে লোকসানের অজুহাত তুলে ২০০৯ সনের ৩০ ডিসেম্বর মিলটি বিজেএমসি’র কাছে হস্থান্তর করে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১০ সনের জুলাই খালিশপুর জুট মিল নামে এ মিলটি পুনঃচালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর মিলটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায়। এরপর ২০১১ সনের ৫ মার্চ মিলের উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিলটি গত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ১০৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের ১৩ হাজার ৩১৮ দশমিক ৭৯ মেট্রিক টন, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ৬৯ কোটি ৯৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৮ হাজার ৮৬১ দশমিক ২৭ মেট্রিকটন এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ৯৯ কোটি ৩৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ১৩ হাজার ৭১৫ দশমিক ৩০ মেটিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৯৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার পাটজাত পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

This post has already been read 563 times!

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*