২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০ রবিউস-সানি ১৪৪১
শিরোনাম :

লাম্পি স্কিন রোগের লক্ষণ, প্রতিকার, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

Published at ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

ডা. মো. জহিরুল ইসলাম : লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি চর্মরোগ যা শুধুমাত্র গরু ও মহিষে হয়। গবাদিপ্রাণিতে আফ্রিকার জাম্বিয়াতে এ রোগটি ১৯২৯ সালে প্রথম দেখা যায়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে এ রোগটি প্রথম শনাক্ত হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

রোগের লক্ষণ:
• প্রথম পর্যায়ে আক্রান্ত প্রাণীর জ¦র ১০৪-১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়, ব্যাথা, খাবার গ্রহণে অরুচি দেখা দেয়।
• আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গোলাকার গুটি বা ফোস্কা দেখা দেয়।
• পায়ে এবং শরীরের নিম্নাংশে ফুলে পানি জমা হয় এবং প্রাণি খুঁড়িয়ে হাটে।
• শেষ পর্যায়ে কয়েকটি গুটি বা ফোস্কা ফেটে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়।

রোগটি যেভাবে ছড়ায়:
• মশা ও মাছি, আঠালী এবং মাইটের মাধ্যমে রোগটি দ্রুত এক প্রাণী হতে অন্য প্রাণীতে ছড়ায়।
• আক্রান্ত প্রাণী এক স্থান হতে অন্য স্থানে পরিবহনের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে।
• এছাড়া আক্রান্ত প্রাণীর লালা, দুধ এবং আক্রান্ত প্রাণির সংস্পর্শের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে।
• আক্রান্ত প্রাণী পরিচর্যাকারী, চিকিৎসক বা ভ্যাক্সিন প্রদানকারীর মাধ্যমেও রোগটি অন্য সুস্থ্য প্রাণিতে ছড়াতে পারে।
• আক্রান্ত প্রাণীর ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগটি অন্য প্রাণীতে ছড়াতে পারে।

রোগের কারণে ক্ষতি:
• আক্রান্ত গাভীর দুধের উৎপাদন কমে যায়, গর্ভপাত হয়, ওজন অনেকাংশে কমে যায় এমনকি বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
• চামড়ার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং মৃত্যুর হার ১০-১৫%। সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি নেই।

রোগ নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ:
• খামার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
• খামারে জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কীটপতঙ্গ, মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ করা।
• খামারে আক্রান্ত প্রাণীর জন্য মশারির ব্যবস্থা করা এবং আক্রান্ত প্রাণী দ্রুত অন্য স্থানে সরিয়ে পৃথকভাবে চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা।
• আক্রান্ত অঞ্চলে প্রাণীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চারণ ভূমিতে না নেওয়া।
• আক্রান্ত প্রাণির ক্ষতস্থান চিংচার আয়োডিন , পভিসেপ অথবা ০.১% পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট দ্বারা সকাল বিকাল ধৌত করা।

চিকিৎসা :
• যেহেতু ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয় কাজেই কোন এন্টিবায়োটিক এ রোগে কোন কাজ করে না, উপরন্তু এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে প্রাণি দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য: প্যারাসিটামল ট্যাবলেট- ২টি, খাবার সোডা – ৫০ গ্রাম, নিমপাতা বাটা-২৫ গ্রাম, লবণ-২৫ গ্রাম, গুড়-৫০ গ্রাম প্রতি লিটার প্রানিতে একত্রে মিশ্রিত করে সকাল বিকাল ৭দিন সেবন করালে লাম্পি স্কিন ডিজিজ থেকে উপশম পাওয়া যায়।

প্রতিরোধ
• গোট পক্স ভ্যাক্সিন প্রাণীর ওজনভেদে ৩ গুণ বেশি হারে দেয়া হলে এ রোগ প্রতিরোধ হয়।
• আক্রান্ত প্রাণি সুস্থ্য হয়ে যাওয়ার পর তার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে প্রতি ১০০ কেজি ওজনের জন্য ১০ সিসি সুস্থ্য গরুর মাংসে ৭ দিন পর পর ৩ বার প্রয়োগ করলে এ রোগ প্রতিরোধ হতে পারে।

লেখক: ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা।

This post has already been read 4497 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN