২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
শিরোনাম :

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকরা বর্ষবরণ করবে রাজপথে

Published at এপ্রিল ১৩, ২০১৯

ফকির শহিদুল ইসলাম(খুলনা): বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী পাটখাতকে তার প্রতিবন্ধী সন্তান বলে আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বলে দিয়েছেন, পাটখাত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা। এক সময়ের সোনালী আঁশ খ্যাত পাট শিল্পই আমাদের দেশ গঠনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভুমিকা রেখেছে। তাই আমরা আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেড়েছি । যুগের বিবর্তনে সেই সোনালী আঁশ পাট শিল্প তার জৌলশ হারিয়েছে বলেই পাটকল ও পাট শিল্প রুগ্ন হয়েছে। একটি পরিবারে দশটি সন্তান থাকলে তার মধ্যে যদি কোনো সন্তান প্রতিবন্ধী হয় তাহলে সেই সন্তাকে পিতামাতা কি ফেলে দেয়? দেয় না বরং সেই প্রতিবন্ধী সন্তানের যত্ন নেয় পরিবারের সবাই। তেমনি আমাদের স্বাধীনতার সোনালী ফসলের শিল্প পাট শিল্প আমার প্রতিবন্ধী সন্তান। আমার পাটকল শ্রমিকরা যেনো কোনো কষ্ট না পায়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জালে ফেলে এ শিল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো বরাদ্দ হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। সাথে সাথে বাড়ছে মিলগুলোর লোকসান, বাড়ছে শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরী এবং বেতনের বকেয়ার পরিমাণ। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিক সন্তানেরা বর্ষবরণে নিজের পরিশ্রমের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য রাজপথের আন্দোলনে থাকছে।

বর্তমান সরকারই ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস ঘোষণা করে। তাই এ দিনটি ব্যাপক তাৎপর্য দিন হওয়ায় ঐ দিবসের দিন শ্রমিকরা তাদের ৯ দফা দাবী বাস্তবায়নে আন্দোলনে নেমেছেন। সারাদেশের পাটকল শ্রমিকরা কাজ বাদ দিয়ে রাস্তায় চট গায়ে দিয়ে, ভুক্ষা মিছিল করেছে, কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে মজুরী কমিশন, বকেয়া মজুরীসহ ৯টি দাবীতে প্রথম দফায় ধর্মঘট, রাজপথ, রেলপথ অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ৯ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে।

পাটকল শ্রমিকরা জাতীয় মজুরী কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, পাটক্রয়ের পর্যাপ্ত অর্থবরাদ্ধ, বদলী শ্রমিক স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সকল বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের সপ্তাহের মজুরী সপ্তাহে পরিশোধসহ বকেয়া মজুরী প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে।

সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সকল পাটকলে এক যোগে ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘন্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে সারা দেশের জুটমিলসহ খুলনা শিল্পাঞ্চল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ঐ আন্দোলন চলাকালে ৩ এপ্রিল বিজেএমসির পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের আলোচনায় ডাকা হয়। ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির কার্যালয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মো. নাসিমের সাথে ৯ দফা দাবি নিয়ে বৈঠক করেন, পাটকল শ্রমিকলীগ নেতাদের সাথে। সেই বৈঠককে শ্রমিকদের স্বার্থ আদায় না হওয়ায় বৈঠক থেকে বেড়িয়ে যান শ্রমিক নেতারা। ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিকলীগ, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ নেতৃবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জাতীয় মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন, প্রতি সপ্তাহে মুজরী প্রদান, বদলী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, অবসর প্রাপ্তদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধের দাবিতে নতুন আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) থেকেই পুনরায় শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচি। এদিন ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করবে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এছাড়া ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ৯৬ ঘন্টা মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট, পাশাপাশি সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজপথ, রেলপথ অবরোধ। এরপর বিরতি দিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রত্যেক মিলে শ্রমিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট, পাশাপাশি সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টা রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করা হবে বলে শুক্রবার পিপলস গোলচত্বর সভা থেকে শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দেন।

বিজেএমসি ও সরকারের হর্তাকর্তারা পাট দিবসে পাটখাত ও পাটকল শ্রমিকদের উন্নয়ন ও পাটখাতের সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনার বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু তাদের সেই বক্তব্য শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। পাটকল শ্রমিকদের কিছুই হয়নি। আগে যেমন ছিলো তেমনই রয়ে গেছে। এরফলে দেশের পাটচাষিরা এবং বিশেষ করে পাটশ্রমিকরা সরকারের এই আশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেনা। পাট সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকার যদি এখনই খুলনাসহ সারাদেশের  রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল ও  শ্রমিক কর্মচারীদের উন্নয়নে কোনো টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে পাটখাত আবার ধ্বংস নেমে আসবে। যার পুরো দায়ভার নিতে হবে বর্তমান সরকারকে। এ শিল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মত ছাড় না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে মিলগুলোর লোকসান, বাড়ছে শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরী এবং বেতনের বকেয়ার পরিমাণ ।

সরকার অনুৎপাদনশীল সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করলেও পাটকল শ্রমিকদের সামান্য সপ্তাহের মজুরি সপ্তাহে পরিশোধ করছেনা। এমনকি সরকারী কর্মচারীদের কয়েকদফা পে-কমিশন, বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া হলেও ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরী কমিশন আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে পাটকল শ্রমিকদের মজুরীর জন্য আন্দোলন, অবসরে গেলে তার জমাকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকার জন্য আন্দোলন, ৩০/৪০ বছর চাকরী করেও নিশ্চয়তা নেই সরকার কর্তৃক প্রদত্ব  গ্রাইচুইটির টাকার । যতোদিন না পাটকল ও পাটকল শ্রমিকদের সমস্যা চিহ্নিত করে তার স্থায়ী সমাধান করা না হবে ততোদিন পাটকল শ্রমিকদের পরিশ্রমের ঘামে ভেজা সাদা রক্তের টাকা নিয়ে থাকবে অনিশ্চয়তা  প্রতিটা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন থাকে চাকরী শেষে অবসর হলে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু এ খাতের শ্রমিক কর্মচারী কারোই নেই  অবসরকালীন ভবিষ্যৎ। বরং অবসরে চলে গেলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে পড়ে মহাসংকটে। কেননা চাকরি থাকা অবস্থায় চাল, ডাল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মুদি দোকানী হয়তো বাকি দেয় বলে কোনো রকম বেঁচে থাকা যায়। চাকরি থাকা অবস্থায় যদি শ্রমিক কর্মচারী ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করে তাহলে অবসরে গেলে তাদের পাওনা বছরের পর বছর ঝুলে থাকবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কারীরাতো সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য পেয়ে বেঁচে আছে কিন্তু পাট শ্রমিকরা কোনো সাহায্য পায়না বা কোনো সংস্থা দেয়না। যার কারণে সরকারি খাতের পাটকল শ্রমিকরা নিজ দেশ থেকে পরিশ্রম করে উৎপাদন দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা শরনার্থীদের চেয়েও তারা অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। এমনই অবস্থায় স্ত্রী সন্তানদের মুখে কিভাবে খাবার তুলে দিবেন তার হতাশায় অনেক শ্রমিক হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। স্ট্রোক করে অনেকে হয়েছেন পঙ্গু ও কর্মহীন। পাটকল শ্রমিক কর্মচারীদের সপ্তাহের মজুরী সপ্তাহে আদায়, অবসর সুবিধা আদায়ে লড়াই করা জীবন যাপন আর কতোদিন এমন প্রশ্ন শ্রমিক ও তাদের স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের। তাদের দাবী হয়তো আমাদের মেরে ফেলা হোক নয়তো আমাদের বাঁচার মত বাঁচতে টেকসই ব্যবস্থা করা হউক যাতে সপ্তাহ শেষে তার প্রাপ্ত মজুরীর নিশ্চয়তা থাকে। শ্রমিক নেতারা জানান, দিনের পর দিন না খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ে দিনের পর দিন রাস্তায় শুয়ে থাকা ভালো। কেননা বাসায় থাকা হলে স্ত্রী সন্তানদের ক্ষুদার যন্ত্রণা দেখলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় থাকেনা। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা জানান, বাসায় এক কেজি চাল নেই ,নেই ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ কি করবো বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের গচ্ছিত আমানত প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা সেটাও পাচ্ছিনা। শ্রমিকরা টাকার জন্য রাজপথ, রেলপথ অবরোধ, লাল পতাকা মিছিল, মানব বন্ধন, ভুখা মিছিল, শ্রমিক জনসভা, গেটসভা, কাফনের কাপর পড়ে মিছিলসহ অভিন্ন কর্মসূচি পালন করা সত্বেও আজও আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা  পাচ্ছিনা। আমাদের অনেকে ক্ষুদার এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেয়েছে মৃত্যুর স্বাধ গ্রহন করে। শ্রমিকরা জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী সন্তান। আমাদের স্ত্রী, পুত্র, সন্তানেরা না খেয়ে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নির্দেশনা থাকা সত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জালে ফেলে প্রতিবন্ধী সন্তানদের রাস্তায় নামিয়েছে তাদের বিচার করুন ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে যখন দাম তুলনামূলক কম থাকে ও মানসম্পন্ন পাট বাজারে থাকে তখন ক্রয়ের জন্য প্রস্তুত থাকাই নিয়ম। কিন্তু আগাগোড়াই এ ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাট উঠতে শুরু করলে বিজেএমসিতে ফাইল চালাচালি শুরু হয়। বিজেএমসি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে যখন পাট কেনার টাকা ছাড় করে ততোদিনে সমুদয় পাট চলে যায় পাট মহাজনদের গুদামে। সেখান থেকে ভালো মানের পাট রপ্তানি হয়ে যায় ভারতসহ অন্যান্য দেশে। পরে জুট মিলগুলো দ্বি’গুণ-আড়াই গুণ দামে নিম্ন মানের পাট কিনতে বাধ্য হয়। মিলে লোকসান হয়েছে দু’দিক দিয়ে।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনেও পাটকলগুলোতে হয়নি বিএমআরই, লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। আর দেশে-বিদেশে পাটের বহুমুখী পণ্যের চাহিদা থাকলেও খুলনাসহ সারা দেশের পাটকলগুলোতে তা তৈরির উপযোগী যন্ত্রপাতি নেই। আর বিকল হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য তাঁত। এ সব তাঁত বন্ধ থাকায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাটকলগুলোতে যেমন রয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব, তেমনই পাটের সংকট। মূলত এ সব কারণে টার্গেট অনুযায়ী পাটজাত পণ্যের উৎপাদনে দিতে পারছেনা এ সব পাটকল। সঙ্গতকারণেই পাটকলগুলোর লোকসান দিনকে দিন বেড়েই চলছে।  মিলগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় চলছে লুটপাটের মহাউৎসব। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিম্নমান অথবা নকল কিনে কাগজপত্রে উন্নতমানেরটি দেখিয়ে গুটি কয়েক ক্ষমতাসীন দলের নেতা, পাতি নেতারা রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। অনেক নেতা আছেন যারা কিছুদিন আগেও ঠিকমতো সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন তারা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ পাটকলকে মনে করেন নিজের বাপের সম্পত্তি । তারা কম দামের যন্ত্রাংশ বেশি দামে মিলে সরবরাহ করতে মিল প্রশাসনকে বাধ্য করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। লাভজনক গুটিকয়েক মিল এদের কারণে আজ লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে সরকারি মিলের অর্থ আত্মসাৎ করা যেনো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছ। অনেক সময় প্রয়োজন নেই, তবুও অর্থ লুটপাটের অসৎ উদ্দেশ্যেই যন্ত্রাংশের কেনাকাটা করা হয়েছে। মিলের লোকসানের অন্যতম আরেকটি সূত্র ব্যাংক ঋণের সুদ। ক্রমাগতভাবেই লোকসান দানকারী মিলসমূহ ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বিরত থাকে। সুদ-আসল মিলে সে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এখন বিশাল অংকের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে মিলগুলোর লোকসানের পরিমাণই কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতে করে সুদূর পরাহত হচ্ছে পাট শ্রমিকদের। বছরের পর বছর বকেয়াসহ অবসর প্রাপ্তদের পাওনাদী ।

পাট রপ্তানীকারকরা জানান, বারবার পাটকল শ্রমিকদের এই আন্দোলনের পরও কোনো সুরাহা হচ্ছেনা। যা দেশের পাটখাতের জন্য খারাপ সংকেত। পাট খাতকে নতুন করে এগিয়ে নেয়ার কথা বললেও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলো দিন দিন লোকসানী ও বন্ধের পথে এগোলেও সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বলে মনে করেন পাট শিল্পর সাথে জড়িতরা। তাদের অভিমত বর্তমান সরকার পাট শ্রমিক বান্ধব সরকার হওয়া সত্বেও শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। সরকার পাটকে কৃষি ভিক্তিক শিল্লের মর্যাদা দিয়েছে কিন্ত দেয়া হয়নি কৃষি ভিক্তিক শিল্পের নগদ ২০ ভাগ প্রণোদনা। অন্যান্য বে-সরকারি কৃষি ভিক্তিক শিল্পে যেখানে প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋন দিয়ে সহায়তা করা হয় সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকদের এ সুবিধা থেকে করা হয়েছে বঞ্চিত। ২০ শতাংশ কৃষি ভিক্তিক প্রণোদনা এবং রপ্তানী আয়ের উপর ১০ শতাংশ রিবোট দেয়া হলে শুধু রাষ্টায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকদের টেকসই ব্যবস্থা হবে তা নয় ব্যবস্থা হবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যাক ওয়েজ লিংকের শিল্প এবং সরাসরি প্রায় ২ কোটি কৃষকের টেকসই  কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে একদিকে কৃষক পাবে তার পাটের  ন্যায্য মুল্য অন্যদিকে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন, গ্রাইচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা প্রদান ও বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ সাপ্তাহিক মজুরী সপ্তাহে প্রদানে থাকবে না কোনো প্রতিবন্ধকতা।

This post has already been read 121 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN