২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০ রবিউস-সানি ১৪৪১
শিরোনাম :

যে কোন মূল্যে আলু রপ্তানি করতে হবে –কৃষি মন্ত্রী

Published at ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

আলু রপ্তানি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এম.পি এবং কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রতি বছর আলুর উৎপাদন ৫ দশমিক ১৯শতাংশ হারে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই যে কোন মূল্যে আলু রপ্তানি করতে হবে –এ ব্যাপারে সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে এই শিল্পটিকে লাভজনক করতে হবে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপসের জন্য উপযোগী আলুর জাত আবাদ করতে হবে। আলু  প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রপ্তানির মাধ্যমে এই শিল্পকে লাভবান করতে হবে। এজন্য আমাদের রপ্তানি উপযোগি আলু পেতে হলে কন্ট্রাক্ট ফারর্মিং এ যেতে হবে। সরকার যে রপ্তানি উপযোগী আলুর বীজ অবমুক্তির বছরের সময়সীমা তুলে নিয়েছে, এখন যে যেকেউ রপ্তানি উপযোগি আলুর জাত আবাদ করতে পারবেন। তবে রোগবালাইয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান তদারকি করবে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আলু রপ্তানির বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রী বলেন, মানুষ নিরাপদ খাদ্য চায়। বর্তমান মৌসুমে আলু রপ্তানির ব্যাপারে কি উদ্যোগ গ্রহণ কর হেয়েছে, কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা জানতে চান এবং আলু রাপ্তানির ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চান। আলু রপ্তানির উদ্দেশ্য আমদানিকারকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে। বারি এ প্রর্যন্ত ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করেন। আলু প্রসেসিং করে রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রপ্তানির জন্য যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা পূরণ করে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আলু রপ্তানি হচ্ছে সে সব দেশে কি জাতের আলুর চাহিদা রয়েছে তা জানতে হবে এবং আমাদের দেশে আবাদ রতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আমাদের আলুতে কোন নেমাটোড নেই। এছাড়া ব্রাউন রড এর কারণে রাশিয়া আলু নেয়া বন্ধ করেছে। পুনরায় সে দেশে আলু রপ্তানির জন্য সেদেশের সাথে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মানসম্মত আলু ও আন্তর্জাতিক মানের চিপস তৈরি করতে হবে। পাকিস্তানের আলুর মূল্য কম হওয়ায় তারা বাজার দখল করে রেখেছে, সেক্ষেত্রে কি উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় তা তারা বলেন। এর মধ্যে পরিবহন খরচ কমানো ওপর তারা জোর দেন। শ্রীলংকা,পাকিস্তান, তুরস্কসহ অনেক দেশে আলু রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

তাঁরা বলেন, আলু সংরক্ষণের অভাবে উপযুক্ত দাম না পেয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ এবং লাগসই সংরক্ষণ প্রযুক্তির সহজলভ্যতার অভাব। বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানিকারক দেশ যে সব শর্ত দিয়েছে তা মেনে  ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট (পিসি)নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সভাপতিত্বে সভায় আলু উৎপাদতকারী, রপ্তারীকারক ও আলুবীজ উৎপাদনকারীগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংস্থার প্রধানগণ ও কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

This post has already been read 355 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN