১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০, ৬ শাওয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

ব্রয়লার মুরগির মাংস কেন খাব?

Published at মে ৪, ২০২০

কৃষিবিদ মো. মহির উদ্দিন : ১৯৯৯/২০০১ বছরে পৃথিবীতে মাংস উৎপাদনের পরিমান ছিল ২২৯ মিলিয়ন টন। ২০০৬ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র একটা ভবিতব্য করেছে যে ২০৫০ সালে মাংসের চাহিদা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৪৬৫ মিলিয়ন টন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি সচেতনতা ইত্যাদি কারনে বাড়বে মাংস তথা প্রাণিজ আমিষের চাহিদা।

আমরা যদি আজ হতে ৩/৪ দশক পিছনে তাকায় তাহলে চোখের সামনে ভেসে উঠবে- কারো বাড়িতে মেহমান আসলে এক হালি ডিম বা একটা মুরগি কেনার জন্য পাড়াময় ঘুরার ছবি। ক্রমবর্ধমান মানুষের বর্ধিত চাহিদা পূরণ এবং জীবন স্বাচ্ছন্দময় করে তোলার জন্য অন্যান্য সকল বিষয়ের সাথে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার পরশ প্রাণিসম্পদকেও ছুঁইয়ে গেছে। আর এ জন্যই তো একটা গাভী হতে দৈনিক ৩০/৪০ লিটার দুধ পাচ্ছি,একটা লেয়ার মুরগি বছরে ৩০০ উপরে ডিম পাড়ছে, একটা ব্রয়লার মুরগি ৩৫ দিনে ২ কেজি ওজন হচ্ছে, একটা ষাড় বছরে ৫০০-১০০০ কেজি ওজন হচ্ছে। এমন যদি না হতো তাহলে কি আমরা দুধের দাম পাচ্ছি না বলে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে রাস্তায় ফেলতে পারতাম? ডিমের দাম কম বলে মুরগি খামারীরা চিৎকার করতো? আর এসব সম্ভব হয়েছে কৌলিতাত্তিক পরিবর্তনের(genetically modification)মাধ্যমে। একই ধরনের টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপদান বেড়েছে, কমেছে উৎপাদন কাল। তেমনি ব্রয়লার মুরগি ওজন ৩০-৩৫ দিনের ২/২.৫ কেজি হওয়া বিজ্ঞান ও টেকনোলজির বিষয় অন্য কিছু নয়। তাই কোন গুজবে কান না দিয়ে ব্রয়লার মুরগির মাংস খান,সুস্থ,সবল থাকুন। ব্রয়লার মুরগির মাংস সুস্বাদু, ব্রয়লারের মাংসে আঁশ থাকেনা এবং নরম বলে সহজপাচ্য তাই বাচ্চাদের খুব পছন্দের।

এবার দেখে নেয়া যাক ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ:

একজন মানুষের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ বজায় রাখতে প্রতিদিন গড়ে ২০০০ ক্যালোরি প্রয়োজন। ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংসে ১৪৪ ক্যালোরি রয়েছে, যা আপনার দৈনিক ক্যালোরির প্রয়োজনের ৭% ।

আমরা মাংস খায় রুচি,স্বাদ আর প্রোটিনের জন্য। একজন গড় প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৫০ গ্রাম প্রোটিন দরকার হয়। ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংসে ২৮.০৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে ,যা আপনার মোট দৈনিক চাহিদার ৫৬%।

১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংসে থাকে ৩.৫৮ গ্রাম ফ্যাট,যা আপনার দৈনিক চাহিদার ৫%। একজন বয়স্ক মানুষের দৈনিক ফ্যাট প্রয়াজন ৬৫ গ্রাম।

১০০ গ্রাম ব্রয়লারের মাংসে ৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, আপনার প্রতিদিনের কোলেস্টেরল গ্রহণের পরিমাণ ৩০০ মিলিগ্রামের কমে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। যদি আপনি হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন তবে ২০০ এর কম।
সঠিকভাবে কাজ করতে আপনার শরীরের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিনের প্রয়োজন। ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগীতে ভিটামিন এ (১৭ আইইউ), ভিটামিন বি -৯ (১১ মিলিগ্রাম) এবং ভিটামিন বি -৩ (9.63 মিলিগ্রাম) । এছাড়া থাকে ভিটামিন বি১,বি২ এবং বি১২ এবং ভিটামিন ই।

খনিজ হলো অজৈব পদার্থ যা শরীরের বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পাদানের অল্প পরিমানে দরকার হয়। কিছু কিছু খনিজ পদার্থ আছে দেহের বিকাশ ও সুস্থ থাকার জন্য বেশি পরিমানে লাগে যেমন-ক্যালসিয়াম । ব্রয়লার মুরগির মাংসে যে খনিজ পদার্থগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমানে থাকে সেগুলো হলো-ফসফরাস,সোডিয়াম এবং সেলেনিয়াম যা দেহের প্রতিদিনের চাহিদার যথাক্রমে- ২৫,২২ এবং ৩৩ ভাগ।

আমরা অনেকে মোটা হয়ে যাব বলে এবং ডায়াবেটিস এর জন্য মাংস খেতে ভয় পাই, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ১০০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংসে কার্বোহাইড্রেটের পরিমান ০ গ্রাম অর্থাৎ কোন কার্বোহাইড্রেট থাকে না।

লেখক: উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চাটমোহর, পাবনা।

This post has already been read 1461 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN