১১ চৈত্র ১৪২৫, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৮ রজব ১৪৪০
শিরোনাম :

বাড়ন্ত অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হবে

Published at মার্চ ৪, ২০১৯

মো.এমদাদুল হক (পাবনা): রবিবার (৩ মার্চ) পাবনার সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্ধ ইউনিয়নের ফুলালদুলিয়া গ্রামের কৃষাণি রাজিয়া বেগমের তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ প্রদর্শনী ক্ষেতে, ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলিজ প্রোগ্রাম ফেজ-২ অর্থায়নে, সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে মসলা জাতীয় ফসলের ওপর  মাঠ দিবস  অনুষ্ঠিত হয়।

ফুলালদুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল ছাত্তারের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পাবনা অঞ্চলের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা, কৃষি সম্প্রসাণ অধিদপ্তরের অতি: উপপরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ ড. মো. আজিজুর রহমান ও অতি: উপপরিচালক (ক্রপ) কৃষিবিদ মো.সাইফুল ইসলাম, সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ময়নুল হক সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইশরাত জাহান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষিবিদ আজাহার আলী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের দানাদার খাদ্য, শাকসবজি, ফলমূলের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে পাশাপাশি মশলাজাতীয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের মশলা জাতীয় আবাদের জমি বৃদ্ধি না করে আধুনিক জাতের মশলা চাষাবাদ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাহেরপুরি জাত পেঁয়াজের অধিক ফলন শীল জাত। পেঁয়াজের পার্পল ব্লচ রোগ  সবচাইতে মারাত্মক। এই রোগ ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের জীবাণু বায়ু ও বৃষ্টির পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। পার্পল ব্লচ আক্রমণে প্রথম পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। পরে বাদামি গোল গোল দাগ দেখা দেয় এবং দ্রুত বিস্তার করে। পার্পল ব্লচ রোগে আক্রান্ত হলে ফলনে ধ্বস নামে। তাই রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য নিয়মিত জমি পরিদর্শনের করার অনুরোধ জানান এবং রোগবালাই  হলে কৃষি বিশেজ্ঞর পরামর্শ মোতাবেক ব্যবস্থার নেওয়া কথা উল্লেখ করেন।

সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,তাহেরপুরি পেঁয়াজ আমাদের সুজানগর উপজেলায় বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু চাষাবাদ কৌশলে আমরা এখনো আধুনিক হইনি এজন্য আশানুরুপ ফলন পাচ্ছিনা। তাই অধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে চাষাবাদ করতে হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি জানতে কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ কারার অনুরোধ জানান এ সময় তিনি।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পাবনা অঞ্চলের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করে অধিক উৎপাদনশীল জাত সমূহ যথাসময়ে যথাযথভাবে আবাদের মাধ্যমে কৃষি পন্যর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি উপস্থিত চাষিদেরকে নতুন জাত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া এবং দেশের মশলা জাতীয় খাদ্য আমদানি করা থেকে রক্ষা করে দানাজাতীয় ফসলে ন্যায় রপ্তানি করার মত সামর্থ্য অর্জন করতে হবে বলে জানান।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ একটি সঠিক সময়ে সেচ নির্ভর ফসল। কিন্তু পেঁয়াজ আবাদ দাঁড়ানো পানি মোটেই সহ্য করতে পারে না। তাই সেখানে নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে, ঘনঘন পরিমিত পরিমান সেচের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাটিতে রসের ঘাটতি হলেই সেচ দিতে হবে। সেচ ও নিস্কাশনের সুবিধার জন্য বেড করে পেঁয়াজ চাষ করা উচিত। পেঁয়াজের বাড়ন্ত অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি ।

মাঠ দিবসে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাসহ আশপাশের গ্রামের কয়েকশত কৃষক কৃষাণি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন উপসহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন।

This post has already been read 120 times!

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN