৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

প্রাকৃতিক উপায়ে সবজি পাতার ম্যাপ পোকা নিয়ন্ত্রণ

Published at জুলাই ৭, ২০১৯

সবজি পাতার ম্যাপ পোকা

মৃত্যুঞ্জয় রায় : প্রকৃতিতেই শক্রু পোকাদের শায়েস্তা করার নিদান লুকিয়ে আছে। আছে বিভিন্ন বন্ধু পোকা ও মাকড়সা, উপকারী রোগজীবাণু। ক্ষেতে কোনো বিষ না দিলে এরা বেঁচে থাকে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই শত্রু পোকাদের মেরে ফেলে। এছাড়া আছে বিভিন্ন কীটবিনাশী গাছপালা। এসব গাছপালা থেকে উদ্ভিদজাত কীটনাশক তৈরি করে আক্রান্ত ক্ষেতে প্রয়োগ করলে তাতে শত্রু পোকা নিয়ন্ত্রণ হয় অথচ সেসব প্রাকৃতিক কীটনাশক বন্ধু পোকাদের কোনো ক্ষতি করেনা।

বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শাক সবজি পাতার ম্যাপ পোকা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি এখানে তুলে ধরা হলো। আশা করি সবজি চাষিরা ক্ষেত জরিপ করে পোকামাকড়ের অবস্থা বুঝে এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিনা বিষে সবজির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

সবজি পাতার ম্যাপ পোকা : শিম, বরবটি, কুমড়ো, টমেটোর ছোট গাছ বা চারা পাতায় অনেক সময় হালকা বা সাদা রঙের আঁকা বাঁকা সুড়ঙ্গের মত অনেক দাগ দেখা যায়। পাতা সুড়ঙ্গকারী এক ধরণের মাছির বাচ্চারা এ ধরনের দাগ সৃষ্টি করে থাকে। দাগগুলো দেখতে ম্যাপের মত বলে এ পোকাকে ম্যাপ পোকাও বলে। এসব সজীব দাগ বা আক্রান্ত স্থানে পাতার উপর ও নিচের পর্দার মধ্যে দাগ ফাটালে এ পোকার হলদেটে ম্যাগোট বা কীড়া দেখা যায়। দাগগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। অধিক আক্রমণে গোটা পাতাই শুকিয়ে যায়। এর ফলে চারা গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি আক্রমণ বেশি হলে চারাই মারা যায়।  আক্রান্ত গাছে ফল কম ধরে ও ফল ছোট হয়ে যায়। বিনা বিষে এ পোকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিুলিখিত ব্যবস্থাদি নেয়া যেতে পারে-

১. আক্রান্ত পাতা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

২. তামাক পাতা ১ কেজি পরিমাণ নিয়ে ১৫ লিটার পানিতে একরাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর সাথে সামান্য সাবান যোগ করতে হবে। ছেঁকে সেই দ্রবণ স্প্রে করতে হবে।

৩. প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার নিমতেল অথবা নিমবিসিডিন মিশিয়ে তিন বার ক্ষেতে স্প্রে করতে পারলে  সুফল পাওয়া যায়। নিম তেল ব্যবহার করলে নিম তেল ও পানির সাথে ১ মিলিলিটার তরল সাবান যেমন ট্রিক্স মেশাতে হবে।

This post has already been read 70 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN