৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

প্রাকৃতিক উপায়ে সবজির মাকড় নিয়ন্ত্রণ

Published at সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯

মৃত্যুঞ্জয় রায় : প্রকৃতিতেই শক্রু পোকাদের শায়েস্তা করার নিদান লুকিয়ে আছে। আছে বিভিন্ন বন্ধু পোকা ও মাকড়সা, উপকারী রোগজীবাণু। ক্ষেতে কোনো বিষ না দিলে এরা বেঁচে থাকে এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই শত্রু পোকাদের মেরে ফেলে। এছাড়া আছে বিভিন্ন কীটবিনাশী গাছপালা। এসব গাছপালা থেকে উদ্ভিদজাত কীটনাশক তৈরি করে আক্রান্ত ক্ষেতে প্রয়োগ করলে তাতে শত্রু পোকা নিয়ন্ত্রণ হয় অথচ সেসব প্রাকৃতিক কীটনাশক বন্ধু পোকাদের কোনো ক্ষতি করেনা।

বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শাক সবজির মাকড় নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি এখানে তুলে ধরা হলো। আশা করি সবজি চাষিরা ক্ষেত জরিপ করে পোকামাকড়ের অবস্থা বুঝে এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিনা বিষে সবজির পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

সবজির মাকড় : সবজি ফসলে সাধারণতঃ লাল মাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়। লাল মাকড় একটি বহুভোজী শত্রু। বেগুন, কুমড়া, ঢেঁড়শসহ প্রায় ১৮৩ টি ফসলে এদের আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। মাকড় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। ভাল করে লক্ষ্য না করলে চোখেই পড়ে না। এদের নিম্ফ বা বাচ্চা দেখতে হলে শক্তিশালী ম্যাগনিফাইং কাঁচ বা অনুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে। দৈর্ঘ্য একটি মাকড় মাত্র ০.৩৫ মিলিমিটার। রং হালকা বাদামী থেকে লাল। তবে স্ত্রী মাকড় বাদামী লাল অথবা সবুজ ও হলুদ বা ঘোর বাদামী সবুজ।

পূর্ণবয়স্ক মাকড় ও নিম্ফ বা বাচ্চা উভয়ই সবজির ক্ষতি করে। এরা দলবদ্ধভাবে পাতার তলার পাশে থেকে পাতা থেকে রস চুষে খেতে থাকে। ফলে পাতার নিচের পিঠে লোহার মরিচা পড়ার মত রং দেখা যায়। মাকড়ের সুক্ষ্ম জাল, গোলাকৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিম এবং মাকড়ও সেখানে দেখা যায়। অধিক রস চুষে খেলে পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। এদের বোনা জালে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয় ও ফলন কমে যায়। বিনা বিষে এ পোকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিুলিখিত ব্যবস্থাদি নেয়া যেতে পারে-

১. প্রতি ৩ দিন অন্তর সবজির জমিতে জরিপ করে মাকড়ের উপস্থিতি নিরূপণ করতে হবে। এ সময় মাকড় আক্রান্ত পাতা তুলে পলিব্যাগে নিয়ে তা মাঠের বাইরে এনে ধ্বংস করতে হবে।

২. রসুন ১০০ গ্রাম পরিমাণ বেটে, পানি ০.৫ লিটার, ১০ গ্রাম সাবান ও ২ চা চামচ কেরোসিন তেল একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে।

৩. ছেঁচা নিম বীজ ৫০০ গ্রাম পরিমাণ ৪০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এক রাত রেখে দিতে হবে। তার পর তা ছেকে ০.৪ হেক্টর জমিতে স্প্রে করতে হবে। একবার স্প্রে করলে সে ক্ষেত প্রায় ২ সপ্তাহ পর্যন্ত মাকড়ের আক্রমণ মুক্ত থাকতে পারে।

৪. গুঁড়া সাবান ৩০ গ্রাম বা শ্যাম্পূ ৩০ মিলিলিটার পরিমাণ ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

৫. একটি মাটির পাত্রে গো মূত্র রেখে ১৪-১৫ দিন পচাতে হবে। পরে তার সাথে ১০ গুন পানি মিশিয়ে ক্ষেতে স্প্রে করতে হবে।

This post has already been read 307 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN