২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জুলাই ২০২০, ২১ জিলক্বদ ১৪৪১
শিরোনাম :

প্রসংগ : আল্ট্রাসনোগ্রাম, ছেলে নাকি মেয়ে হবে?

Published at জুন ৪, ২০২০

ডা. নাজিয়া সুলতানা শুভ্রা: আজকাল প্রযুক্তির বদৌলতে সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আগেভাগে অনুমান করে বলে ফেলা যায়। বেশিরভাগ বলছি এইজন্য যে শতভাগ ক্ষেত্রে নানা কারণে অনেক সময় জেন্ডার ছেলে না মেয়ে বোঝা যায় না।

কিছু কুসংস্কার আছে, যেমন-
১. মেয়ে হলে মা সুন্দর হয়, ছেলে হলে অসুন্দর হয়;
২. মেয়ে হলে পেট সামনের দিকে চোখা হয়, ছেলে হলে পেট পাশে চওড়া হয়;
৩. মেয়ে হলে ডানে বেশি নড়ে, ছেলে হলে বামে নড়ে বা উল্টোও হতে পারে।আমাদের সমাজে মা খালাদের এ সকল কথা একেবারেই অবান্তর। এসব কথার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা যুক্তি কোনটিই নেই। তাই প্রথমেই এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

মোটামুটিভাবে ১৮/১৯ সপ্তাহ থেকে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে ছেলে হবে, না মেয়ে হবে মোটামুটিভাবে বোঝা যায়। আর তা বোঝার একমাত্র উপায় হলো ছেলেদের পুরুষাঙ্গ দেখে বোঝা। যদি পুরুষাঙ্গ দেখতে পাওয়া যায় তাহলে সন্তানটি ছেলে হবে ধারণা করা যায় আর যদি তা না দেখা যায় তাহলে ধারণা করা হয় সন্তানটি মেয়ে হবে। অনেক সময় বাচ্চার পজিশন -এর কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালো বোঝা যায় না। তখন ছেলে না মেয়ে বলা যায় না।

জেনে রাখুন, ছেলে হবে না মেয়ে হবে এটা বলাটা আমাদের দেশে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তারপরেও রোগীদেরকে অনেক সময় কোনো কোনো সনোলজিস্ট বলে দিয়ে থাকেন জানতে চাইলে। কথাটা খেয়াল করুন, রোগী জানতে চাইলে। না জানতে চাইলে কেউ নিজ থেকে বলেনা সাধারণত। এমন অনেক সনোলজিস্ট আছেন বলেনই না।

প্রথম কথা হলো, যদি কেউ একান্ত জানতেই চান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হচ্ছে, যাদের না জানা পর্যন্ত পেটের ভাত হজম হচ্ছেনা বা রাতের ঘুম প্রায় হারাম হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে যাদের সন্তান সুস্থ আছে কিনা তা জানার চাইতেও এটা জানা বেশি জরুরি যে, সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনারা তাহলে কষ্ট করে খেয়াল করে ১৯ থেকে ২২ সপ্তাহের দিকে একটা এনোমালি স্ক্যান নামের আল্ট্রাসনোগ্রামটি করিয়ে নেয়ার সময় এটা যিনি আল্টাসনোগ্রাম করবেন তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাকালীন নিজ দায়িত্বে জিজ্ঞেস করে নিবেন। আপনি যদি আশা করেন ডাক্তার আপনাকে নিজে থেকে বলবেন তাহলে ভুল ভাবছেন। আর জিজ্ঞেস করলেই শতভাগ ক্ষেত্রে উত্তর পাবেন সে আশা করাও ভুল হবে। ভাগ্য ভালো হলে বলবেন, আর না হলে বলবেন না।

দ্বিতীয় এবং প্রধান যে কথাটি হলো, অনেকে ডাক্তারকে রিপোর্টস দেখানোর সময় বাচ্চা ভালো আছে কিনা জিজ্ঞাসা না করে জিজ্ঞাসা করেন ম্যাডাম দেখেন তো ছেলে না মেয়ে হবে, কি লিখা আছে বা বোঝা যায় কিনা?

অনেকে এমনো আছেন যারা আল্ট্রা করার সময় তো জিজ্ঞাসা করেনই আবার চেম্বারে এসে ডাক্তারকে পরিক্ষা করেন ডাক্তার বলতে পারেন কিনা বা বুঝেন কিনা।

একটু খেয়াল করুন
১. ডাক্তারের কাজ মূলত আপনাকে একটা সুস্থ সন্তান দেবার চেষ্টা করা। ছেলে বা মেয়ে নয়।

২. যেহেতু ছেলে হবে না মেয়ে হবে এটা জানানো আইনত দন্ডনীয় তাই রিপোর্টে এটা লেখা থাকেনা। তাই ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখানোর সময় জিজ্ঞাসা করা একটা অবান্তর প্রশ্ন ছাড়া আর বিব্রত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩. অনেকে আরো স্মার্ট, এতো কিছুর পরেও রিপোর্টের পিছনে যে ছবি থাকে সেটি দেখিয়ে বলেন, তাহলে ছবি দেখে বলেন কিছু কি বোঝা যাচ্ছে কিনা। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি ছবিতে মূলত থাকে মাথার আড়াআড়ি কাটা একটা ছবি, পেটের পাকস্থলি বরাবর কাটা ছবি আর পায়ের উড়ুর হাড়ের ছবি আর এনোমালি স্ক্যান হলে অন্যান্য অংশ বিশেষের ছবি দেয়া হয় যা কিনা বাচ্চার ওজন ও সুস্থতা নির্ণয়ের জন্য দেখা হয় ও ছবি তোলা হয়।

তাই ম্যাসেজে হোক বা চেম্বারে এসে হোক বা টেলিফোনে হোক ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে বিব্রত করবেন না আপনার ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে।

আল্লাহ্‌ আপনাদের মনের আশা পূরণ করুন, আমীন।

This post has already been read 2458 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN