১২ কার্তিক ১৪২৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১০ রবিউল-আউয়াল ১৪৪২
শিরোনাম :

প্রতিদিন এক কাপ দুধ

Published at মে ৫, ২০২০

কৃষিবিদ মো. মহির ‍উদ্দিন: পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জীবকুল ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকে অনেকদিন পযন্ত শুধু দুধ পানে বেঁচে থাকে।তাই দুধ শুধুমাত্র একটি খাদ্য উপকরণ নয়,দুধ একটি আদর্শ বা পরিপূর্ণ (complete food)খাদ্য।দুধে কার্বোহাইড্রেট,প্রোটিন, ফ্যাট,ভিটামিন,প্রায় সব খনিজ উপাদান,বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, শতাধিক ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে সংযুক্ত লিনোলিক এসিড,ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাঁস করে তাছাড়া দুধে থাকে পালমিটোলিক এসিড নামক এক প্রকার ফ্যাটি এসিড যা ইনসুলিন resistance প্রতিরোধ করে এই জন্য ডায়াবেটিস রোগীরা এই বিস্ময়কর পানীয়টি প্রতিদিন এক কাপ উপভোগ করতে পারেন আনন্দের সাথে।

অর্থাৎ দুধ হলো শরীরের জন্য প্রয়োজনী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সহ পুষ্টির এক বিস্তৃত আধার তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন এককাপ দুধ পান করুন। দেখে নেয়া যাক এক কাপ (২৪৪ গ্রাম) দুধে কি কি পুষ্টি উপাদান কতটুকু থাকে।

এক কাপ(২৪৪ গ্রাম) গরুর দুধে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানসমুহ
১. ক্যালরি : ১৪৬, ২. প্রোটিন : ৮ গ্রাম, ৩. ফ্যাট : ৮ গ্রাম, ৪. ক্যালসিয়াম: ২৮% (একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার ২৮ ভাগ), ৫. ভিটামিন ডি : ২৪%, ৬. ভিটামিন বি২: ২৬%, ৭.ভিটামিন বি১২: ১৮%, ৮. পটাশিয়াম : ১০%, ৯. ফসফরাস : ২২%, ১০. সেলেনিয়াম: ১৩%

দুধ হলো উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস। এককাপ দুধে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে।প্রোটিন আমাদের দেহের বৃদ্ধি,বিকাশ,কোষের গঠন,পুনর্গঠন এবং ইমিউন সিস্টেম রেগুলেশন সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। দুধের প্রোটিনকে “সম্পূর্ণ প্রোটিন” হিসাবে বিবেচনা করা হয় ইহাতে শরীরের সর্বোত্তম স্তরে কাজ করতে প্রয়োজনীয় ৯ টি অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড সঠিক মাত্রায় থাকে। দুধের প্রোটিন কে বলা হয় কেজিন। তবে দুধে কেজিন ছাড়াও আরও একটি প্রোটিন থাকে যাকে বলা হয় হোয়ে( whey) প্রোটিন। হোয়ে প্রোটিনে( whey) ব্রাঞ্চড-চেইন এমাইনো এসিড লিউসিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন থাকে, এই ব্রাঞ্চড-চেইন এমাইনো এসিড পেশী গঠনে, পেশীর ক্ষতি রোধে এবং এক্সারসাইজ এর সময় জ্বালানী হিসাবে কাজ করে।

হাড় ও দাঁতের প্রধান গাঠনিক উপাদন হলো ক্যালসিয়াম।মানবদেহের ৯৯ ভাগ ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় হাড় ও দাঁতে। সুস্থ,সবল হাড়ের জন্য দুধ পান খুবই দরকারী কারন দুধ হলো-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন কে২, ভিটামিন ডি সহ পুষ্টির একটি সমৃদ্ধ সংমিশ্রণ। দুধ অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এবং ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমায়। দুধের প্রোটিন সুস্থ সবল মজবুত হাড়ের মূল পুষ্টি। এছাড়া প্রোটিন ৫০% bone volume এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ bone mass তৈরি করে।

দুধ নানাবিধ পুষ্টি উপাদনসমৃদ্ধ একটি খাদ্য তাই আপনি যদি দুধ পানে অভ্যস্ত হন তাহলে ইহা আপনার ও শারীরিক ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করবে। তবে তা হতে হবে সম্পূর্ণ দুধ (whole milk)। দুধে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে বলে দুধ খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ক্ষুধামুক্ত রাখে যা অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন নিবৃত্ত করে এবং এর ফলে দেহের ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ থাকে। দুধের conjugated linoleic acid এবং ক্যালসিয়াম এই দুটি পুষ্টি উপাদান শরীরে ফ্যাট breakdown এ সাহায্য করে এবং ফ্যাট পরিশোষণ বাধাগ্রস্থ করে দৈহিক ওজন হ্রাস করে।

দুধ একটি বহুমুখী পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য। দুধ দিয়ে যত রকমের খাদ্য পণ্য তৈরি করা যায় পৃথিবীতে আর এমন দ্বিতীয় বস্তু নাই যা থেকে এত রকমের খাদ্য দ্রব্য তৈরি করা যায়। নানা কারনে অনেক মানুষ সরাসরি তরল দুধ পান পছন্দ করেন না। দুধ পান না করেও আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিভিন্নভাবে দুধ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।যেমন- দই,পুডিং,পনির,ঘি,মাখন,আইসক্রিম ইত্যাদি।

দুধের কার্বোহাইড্রেটকে বলা হয় ল্যাকটোজ।মানবদেহে এই ল্যাকটোজ হজমের জন্য ল্যাকটেজ নামক এনজাইম থাকে।অনেকের দেহে যথেষ্ট পরিমাণে ল্যাকটেজ এনজাইম তৈরি হয় না,যা ল্যাকটোজ হজম করার জন্য প্রয়োজন। এই সব মানুষের দুধ পানে ডায়রিয়া,পেট ব্যাথা এই ধরনের সমস্যা হতে পারে এই অবস্থাকে বলা হয় Lactose intolerance। তবে দুগ্ধজাত পণ্য যেমন-দই,মিষ্টি,ঘি,মাখন,পনির ইত্যাদি খেতে কোন সমস্যা নাই। তাছাড়া অন্য কোন খাদ্য সহযোগে দুধ গ্রহণে এই সমস্যা হয় না।

একজন মানুষের প্রতিদিনের চাহিদা ২৫০ মিলিলিটার দুধ। একবার ভাবুন তো আমারা একসপ্তাহে কতটুকু দুধ গ্রহন করি। ১৬ কোটি মানুষের এই জনবহুল দেশে যদি আমরা আমাদের প্রয়োজনের অর্ধেক পরিমানও নিয়মিত গ্রহন করি তাহলে আমাদের খামারীদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দেয়া লাগত না। তাই আসুন সুস্থ থাকতে নিয়মিত দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলি।

This post has already been read 2064 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN