৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

পুঁজি সংকটে পোলট্রি খাত: অগ্রিম কর প্রত্যাহার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে নতুন জটিলতা

Published at অক্টোবর ২২, ২০১৯

খোরশেদে আলম জুয়েল: সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা দেশের মানুষের পুষ্টি ও আমিষ যোগানের গুরুত্বপূর্ণ খাত পোলট্রি শিল্প। একের পর এক সমস্যার আঘাতে শিল্পটি এখন পর্যুদস্ত। গেল বছরে ডিমের দাম না পাওয়ায় দেশে অর্ধেকেরও বেশি লেয়ার ফার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যখন ডিমের দাম একটু বাড়তে শুরু করলো, ঠিক তারপর থেকে ব্রয়লার মুরগির দামে ব্যাপক পতন যা এখনো চলছে। তাছাড়া খাতটি নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারতো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার!

এতসব সমস্যার পরও শিল্পটি যখনই একটু মাথা উচু করে দাড়ানোর চেষ্টা করছে তখনই নতুন এক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে AT  বা আগাম কর! সর্বশেষ পাশকৃত বাজেটে ২০১৯-২০ চলতি অর্থবছরে হাঁস-মুরগি, মাছ ও গবাদি পশুর খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ওপর নতুন করে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে পোল্ট্রি শিল্পের সার্বিক উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উৎপাদনকারিরা পুঁজির চরম সংকটে পড়েছেন।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের বলছেন, নিরবে, নিভৃতে, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে, লাখো খামারির অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে গড়ে ওঠা যে পোলট্রি শিল্প সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করেছে, ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সুনিশ্চিত করেছে, ৭০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে- সেই শিল্পটিই আজ আগাম কর (AT) সহ প্রত্যক্ষ ও করের চাপে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

অগ্রিম কর প্রত্যাহারের বিষয়ে শিল্প সংশ্লিষ্টদের দাবীর মুখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ৩১৯-আইন/২০১৯/৮১-মূসক মূলে গত ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে অগ্রিম কর প্রত্যাহারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়; যেখানে এসআরও নং ২৩৯/২০১৯/৭৫-মূসক সংশোধন করে ৩১৯ নং এসআরও এর “প” অনুচ্ছেদটি সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত প্রজ্ঞাপনে এইচএস কোড ভুল হওয়ার কারণে ফলে নতুন করে জটিলতায় পড়েছে দেশের পোলট্রি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাত।

উল্লেখিত ‘প’ অনুচ্ছেদটি সংশোধন করা হয়েছে এভাবে- “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত পোল্ট্রি অথবা গবাদি পশু প্রতিষ্ঠান অথবা  Animal Health Company অথবা পোল্ট্রি, লাইভস্টক ও ডেইরি ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অথবা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত ফিশারি এবং মৎস্য ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এইচএস কোড-২৩০৯.৯০.৯০ এর আওতায় আমদানিকৃত পোল্ট্রি সেক্টরের পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য উপকরণ বা কাঁচামাল।”

লক্ষ্যণীয় বিষয়টি হচ্ছে- উক্ত সংশোধনীতে ভুলক্রমে যে এই এইচ.এস (২৩০৯.৯০.৯০) কোডটি বসানো হয়েছে সেটি শুধুমাত্র ফিস মিল আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। আমদানিকৃত সকল পোল্ট্রি, মৎস্য এবং পশু খাদ্য উপকরণ বা কাঁচামাল এই কোডের আওতায় পড়েনা। ফলে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তোরণ তো ঘটেইনি উপরন্তু বাড়তি জটিলতায় পড়েছে সামগ্রিক পোলট্রি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাত।

এ সম্পর্কে ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) –এর সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান এগ্রিনিউজ২৪.কম এর সাথে আলাপকালে বলেন, এমনিতেই গত বছর থেকে পোলট্রি খাতের অবস্থা ভালো যাচ্ছেনা, আগাম কর আরোপের ফলে ফিড এবং সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক খাতগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, আগাম কর আরোপের ফলে ফিডের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩-৫% বেড়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা চাপের মুখে পড়েছি। যেখানে পোলট্রি শিল্পে কোন ভ্যাট নেই সেখানে আগাম কর বসানো অযৌক্তিক। আমরা চেষ্টা করছি সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি বুঝানোর এবং আশা করি দ্রুত একটা ফলাফল পাবো। আমিষের যোগানতা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটিকে বাঁচাতে হলে এইচএস কোড সংশোধন করে আগাম কর প্রত্যাহারের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে  দু’টি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে এবং সেগুলো হলো-

১.পূর্বের ন্যায় মূসক-৭ এর মতো একটি সার্টিফিকেট নিবন্ধিত পোল্ট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড ম্যানুফ্যাকচারারদের দেওয়া যেতে পারে। যার মাধ্যমে ফিড ম্যানুফ্যাকচারগণ আমদানিকৃত সকল কাঁচামালের উপর আরোপিত আগাম কর (ATV) থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন, যা ইতোপূর্বে (ATV) নামে পরিচিত ছিল।  অথবা

২.সূত্রে উল্লিখিত ৩১৯ নং এসআরও এর “প” অনুচ্ছেদটি  “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত পোল্ট্রি অথবা গবাদি পশু প্রতিষ্ঠান অথবা Animal Health Company অথবা পোল্ট্রি, লাইভস্টক ও ডেইরি ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অথবা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত ফিশারি এবং মৎস্য ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এসআরও নং ২১৪-আইন/২০১৭/৫২/কাস্টমস, তারিখ: ০১ জুলাই ২০১৭ তে অন্তর্ভূক্ত সকল পণ্য এবং সয়াবিন মিল (এইচএসকোড ২৩০৪.০০.০০), ডিডিজিএস (এইচএসকোড ২৩০৩.৩০.০০), কর্ন গ্লুটিন মিল (এইচএসকোড ২৩০৩.১০.০০), রেপসীড এক্সট্রাকশন (এইচএসকোড ২৩০৬.৪৯.০০), সয়াবিন এক্সট্রাকশন (এইচএসকোড ২৩০৪.০০.০০) সহ মৎস্য ও পশু খাদ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য সকল আমদানিকৃত খাদ্য উপকরণ বা কাঁচামাল এবং একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা” এভাবে সংশোধন করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, কর অব্যাহতি প্রাপ্ত পোলট্রি খাত ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে করের আওতায় আসে। মূলত: এরপর থেকেই করের চাপ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।

This post has already been read 558 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN