৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

পাবনায় বাদামী কারেন্ট পোকা দমনে সভা ও আলোক ফাঁদ প্রদর্শনী

Published at নভেম্বর ৫, ২০১৯

পাবনা সংবাদদাতা: পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে দাপুনিয়া ইউনিয়নের আটমাইল বাজারে গত শনিবার (০৩ নভেস্বর) সন্ধ্যায় ক্ষতিকর পোকা-মাকড় সনাক্তকরণে একটি আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। আলোক ফাঁদটি স্থাপন শেষে উক্ত স্থানে ক্ষতিকর বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) দমন কৌশলের ওপর প্রায় শতাধিক কৃষকের উপস্থিতিতে পোকামকড় দমন ও  চাষাবাদ সস্মদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, মাঠে যে সমস্ত ক্ষতিকর পোকার অবস্থান দেখা যাচ্ছে, সেটা পার্চিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদের মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব। সে কারণে জেলার সর্বত্র পার্চিং ও আলোর ফাঁদ করার জন্য কৃষকের সাথে কৃষি বিভাগের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকেরা এ পদ্ধতি গ্রহণ করলে র্অথনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি কৃষি বিভাগের সাথে যোগাযোগ রেখে এ পদ্ধতি গ্রহণের জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রোপা আমন উৎপাদনকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং পাবনা সদর উপজেলাসহ পাবনা সকল উপজেলায় এই কার্যক্রম চলছে। তিনি আরো বলেন,ধানের শত্রু ও বন্ধু পোকার উপস্থিতি নির্ধারন করার জন্য পাবনা জেলার ০৯ টি উপজেলায় একযোগে ধানের জমিতে আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। পোকা নিধনের জন্য কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য এ পদ্ধতি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের উপস্থিতিতে আলোর ফাঁদে আটকা পড়া পোকার বিষয়ে ধারনা দেয়া হয়েছে । সে মোতাবেক দমনের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। চলতি রোপা আমন ধানে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি কম বিধায়  কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহার সীমিত করার পরার্মশ দেয়া হয়েছে।

পাবনা কৃষি তথ্য সার্ভিস,আঞ্চলিক অফিসের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে ধান ক্ষেতের শত্রু ও বন্ধু পোকার উপস্থিতি র্পযবক্ষেনে ব্যাপক হারে মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে আলোক ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। যাতে করে বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) মাঠের ধানের ব্যাপক ক্ষতি করতে না পারে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ র্কাযক্রম পোকাদমনে বিশেষ ভুমকিা রাখছে। এ পদ্ধতির কারণে কৃষকের কীটনাশক ব্যয় সাশ্রয় এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে। ফলে কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে প্রায় দ্বিগুন লাভবান হবেন।

উক্ত র্কাযক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম , বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা কৃষি তথ্য সার্ভিস আঞ্চলিক অফিসের  আঞ্চলিক কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ প্রশান্ত কুমার সরকার, উপজলো কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুম বিল্লা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ , সহকারী তথ্য অফিসার তুষার কুমার সাহা, এআইসিও মো.জুলফিকার ও আশিষ তরফদার।

আলোচনা শেষে  কৃষি তথ্য সার্ভিস, পাবনা কর্তৃক কৃষকদের বিনোদনমূলক পোকামাকড় দমনের বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোর ফাঁদ ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন সর্ম্পকে উপস্থিত কৃষককেরা ধান ও গমের ক্ষতিকর পোকা নির্নয়ে এ পদ্ধতির সাথে প্রথম পরিচিতি ঘটলো বলে মনে করেন, এ ধরনের অধুনিক পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি সকলকে গ্রহন করার জন্য উপস্থিত কৃষকদের অনুরোধ জানানো হয়।

This post has already been read 362 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN