৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৪ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯
শিরোনাম :

পাটের চা

খোরশেদ আলম জুয়েল: সৈয়দ মুজতবা আলীঅদ্ভুত চা খোরনামে একটি গল্প লিখেছিলেনযেখানে চা খেতে না পেয়ে ট্রেনের এক যাত্রী অস্থির হয়ে শেষ পর্যন্ত চাপাতি চিবিয়ে ,পানি দিয়ে গিলে খেয়ে বলেন,অন্তত জীবনটা বাঁচলোকিছুদিন আগে মোশারফ করিমের ‘সেই রকম চা খোর’ বা এই রকম কিছু নামের একটা নাটক দেখলাম।

লোকমুখে প্রচলিত একটি গল্প আছে, ব্রিটিশরা প্রথমে ভারতবর্ষে চা নিয়ে আসেন।তখন নাকি এখানকার লোকদের ডেকে ডেকে বিনে পয়সায় চা পান করতে দিতো। এভাবে কিছুদিন চললো। এরপর যখন ব্রিটিশরা বুঝলো যে আমাদের আদি বংশধরগণ অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, তখনই ব্যাটারা ঘোষণা দিল, মাগনা খাওয়ার দিন শেষ, এখন থেকে নগন নারায়ণ দিয়ে তবেই চা খেতে হবে বাপু! তারপরের চিত্রতো নিজে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন। উপমহাদেশের জনগণ এখন শুধু চা পানে অভ্যস্তই নয়, রীতিমতো অনেকে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চা-এ। শুধু তাই নয়, চায়ের বের হয়েছে হরেক পদ, হরেক আইটেম। লাল চা, দুধ, হরিতকি, বহেরা, মাল্টা, কমলা, লেবু, মসলা চা………. আরো কত কী!

অবাক হওয়ার তেমন কিছুই না, পাটের চা পাবেন এখন থেকে সবচেয়ে ভালো চা পেতে গেলে ফুল আসার আগেই পাট গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সে পাতা সূর্যের আলোতে শুকোতে সাইজ মতো গুঁড়ো করে নিতে হবে এরপর মধু বা চিনি দিয়ে কিংবা না দিয়েও বানিয়ে খেতে পারেন আপনার পছন্দসই ‘পাট চা’। তবে দুধ মিশিয়ে পান করা যাবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় এরকমই চা উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। মূলত পাট চা খেলেও পাট শাকের সমস্ত ভেষজ গুনাগুণও থাকবে এতে। আর পাট পাতাতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী।

This post has already been read 528 times!

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*