৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

পাকুন্দিয়ায় পাটের বাম্পার ফলন

Published at আগস্ট ২, ২০১৯

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয় (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এ বছর সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার দরও ভালো। ধানের লোকসান পাট দিয়ে কিছুটা হলেও লাঘব হওয়ার আশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ বছর অল্প পরিমাণ জমিতে পাট চাষাবাদ করলেও আগামী বছর বেশি পরিমাণ জমিতে পাট চাষ করার স্বপ্ন বুনছেন এখানকার চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম চাষ হয়েছে। উপজেলায় এ বছর ২৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।  পৌরসভা ও উপজেলার চরফরাদী, এগারসিন্দুর ও বুরুদিয়া ইউনিয়নসহ সকল ইউনিয়নেই কম বেশি পাট চাষ হয়েছে। এখানকার চাষীরা তোষা, দেশি ও কেনাফ জাতের পাট চাষ করে থাকে। তন্মেধ্যে বেশির ভাগ চাষীই দেশি ও তোষা জাতের পাট চাষাবাদ করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, পাট চাষীদের পর্যাপ্ত পরামর্শ ও সহযোগিতার ফলে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। তাছাড়া বর্তমান বাজারে ১৮শ থেকে ১৯শ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। এতে ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় পাট চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে বলে জানা গেছে।

পৌরসভার পোড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. রহমত আলী। তিনি এ বছর দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। দেড় বিঘা জমিতে ১৩ থেকে ১৪ মণ পাট পাবেন বলে ধারণা করছেন। এতে বর্তমান বাজার দরে পাটের আঁশ বিক্রি করে খরচ উঠে আসবে। পাশাপাশি পাটশোলা বিক্রি করেও লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলার খামা গ্রামের কৃষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, ৭৫ শতাংশ জমিতে তোষা পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যা করায় পাট গাছগুলো আট থেকে নয় হাত পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। এখন কর্তন করার সময় হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার পাট চাষ করে বেশ লাভবান হবো। গত বৎসর একই জমিতে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভবান হতে পারি নাই। কিন্তু এবার পাট চাষে আমার সেই ঘাটতি পুষিয়ে উঠবে।

আদিত্যপাশা বাগানবাড়ী এলাকার কৃষক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমিতে কেনাফ জাতের পাট চাষ করেছি। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর আগে এতে ভালো ফলন পায়নি। তাছাড়া পাটের বাজার দরও ভালো। তাই আগামী বছর আরো বেশি জমিতে পাটের চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল হাসান আল-আমিন জানান, যদিও এ বছর এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাটের চাষাবাদ কিছুটা কম হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়া বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকেরা আগামি বছরে আরো বেশি জমিতে পাট চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও কৃষি বিভাগ থেকে চাষীদের পর্যাপ্ত পরামর্শ ও সহযোগিতার ফলে পাটের ফলন ভাল হয়েছে বলে তিনি জানান।

This post has already been read 158 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN