১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ রজব ১৪৪১
শিরোনাম :

ধান চাষে নিম কোটেড ইউরিয়ার কার্যকারিতা

Published at ডিসেম্বর ৩, ২০১৭

মো. আরিফ হোসেন খান, মো. মহিবুর রহমান

সার সংক্ষেপ: ২০১৬-১৭ আউশ মৌসুমে টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামার পাবনার বি ব্লকের ৪৩ নম্বর প্লটে ধান চাষে নিম কোটেড ইউরিয়া সারের কার্যকারিতার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাতে মোট ৪টি ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা হয়। ট্রিটমেন্ট নং-১= কোন ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়টি (কন্ট্রোল)। ট্রিটমেন্ট নং-২= ১০০% সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে (ট্রাডিশনাল পদ্ধতি)। ট্রিটমেন্ট নং-৩=১০০%  নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে এবং ট্রিটমেন্ট নং-৪=মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়ার ৮৫% নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যব্যহার করা হয়েছে। পরীক্ষার কাজে আঁউশ মৌসুমের জনপ্রিয় ধানের জাত ব্রিধান-৪৮ ব্যবহার করা হয়।  পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে, যে ট্রিটমেন্টে (ট্রিটমেন্ট নং-৩) ১০০% নিমকোটেড ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে ট্রাডিশনাল পদ্ধতির (ট্রিটমেন্ট নং-২) চাইতে ১২.৩৯% ধানের ফলন বেশী হয়েছে। আবার যে ট্রিটমেন্টে (ট্রিটমেন্ট নং-৪) ৮৫% নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে ট্রাডিশনাল পদ্ধতির তুলনায় (ট্রিটমেন্ট নং-২) ৯.১৪% ধানের ফলন বেশী হয়েছে।

টেবুনিয়া খামারের মাঠের

কী ওয়ার্ড: নিম কোটেড ইউরিয়া (NCU), ইউরিয়া সারের কার্যকারিতার দক্ষতা, পোকামাকড়ের উপস্থিতি

ভূমিকা: ধান চাষে আমরা যে ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকি তার কার্যকরিতার দক্ষতা (Utilization efficiency) শতকরা ৩০-৩৫ ভাগের মধ্যে থাকে।  এজন্য প্রয়োগকৃত ইউরিয়া সারের এক বড় অংশ বিভিন্নভাবে (ভোলাটাইজেশন, নাইট্রিফিকেশন, ডিনাইট্রিফিকেশন এবং লিচিং) অপচয় হয়ে থাকে। সম্প্রতি ভারতের গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ইউরিয়া সারের উপরে নিমের তেলের একটি প্রলেপ (প্রতি টনে ০.৫০ লিটার) দিয়ে ব্যবহার করলে (নিমকোটেড ইউরিয়া) সেই ইউরিয়া সার মাটিতে দ্রুত বিয়োজিত হতে পারে না, ফলে তার কার্যকারিতার দক্ষতা বেশী হয়। এজন্য কিছু কম পরিমাণ ইউরিয়া ব্যবহার করেও ধান এবং গম চাষ করা সম্ভব হয়। এছাড়া ধানের জমিতে রোগ মোকা মকড়ের আক্রমণও কম হয়ে থাকে বলে জানা যায়। নিম কোটেড ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকে বলে জানা যায়। এছাড়া ইউরিয়া সারকে নিমকোটেড করে দিয়ে খাদ্যদ্রব্যে ইউরিয়া সারের অপব্যবহারও রোধ করা সম্ভব।

এ সকল কারণে বর্তমান সময়ে ভারতে বাধ্যতামূলকভাবে নিমকোটেড ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতের  টেলিভিশনে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম চাষিদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যেন তারা নিম কোটেড ইউরিয়া সার ব্যবহারকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন। ভারতের ন্যাশনাল ফাটিলাইজার লিমিটেড ২০০৪ সাল থেকে নিম কোটেড ইউরিয়া সার উৎপাদন করছে। ভারতের Nangal, Bathinda, Panipat Ges Vijaipur এই চারটি সার কারখানাতে বর্তমান সময়ে নিম কোটেড ইউরিয়া সার তৈরী করা হয়। ২০১৫ সালে এই চারটি সার কারখানা থেকে ৩২,৭০,১৯৯ মে. টন নিম কোটেড ইউরিয়া সার তৈরী করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল ফাটিলাইজার লিমিটেড ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, চন্ডিগড়, উত্তর প্রদেশ এবং মধ্য প্রদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০-২৫০টি ডেমোনেশট্রেশন ট্রায়াল করা হয়েছে। এসকল পরীক্ষাতে ফসলের ফলন ৬-১১% এর মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম কোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করলে ১০% এর চেয়ে বেশী ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব বলে ভারতে গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়। এছাড়া নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করার সময় চাষিরা তাদের নিজস্ব অবজারভেশনে দেখেছেন যে, ফসলে বিভিন্ন পোকার আক্রমন কমে যায়। এ বিষয়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করলাম। তথ্যটি ভারতের ন্যাশনাল ফাটিলাইজার লিমিটেড কর্তৃক অনলাইনে দেওয়া একটি লিটারেচার থেকে নেওয়া হয়েছে।

“Other Benefits
Apart from the increase in yield, Neem Coated Urea application has other use full effect in paddy and wheat crops. At one of the locations in the state of UP, farmers have observed that the menace of Neel Gai has reduced significantly in paddy crop. In yet another observation, at Panipat, farmers observed no incidence of leaf folder and, stem borer  in  paddy  crop.  At  Sangrur  and  Gurdaspur,  in  the  States  of  Punjab,  farmers  observed that the incidence of white ant was reduced with the use of Neem coated Urea in wheat crop. This is because of fragrance of Neem oil that on dissolution was released in the standing water in the standing water and insecticidal properties of Neem.”

( wj¼t https://www.google.com/url?sa=—————3Dcom_content%26view%3Darticle%26id%3D139%253Aneem-coated-urea% )

নিম কোটেড ইউরিয়ার এসকল গুণাবলীর কারণে ভারত সরকার বর্তমান সময়ে তাদের দেশের সকল সার কারখানা থেকে উৎপাদিত ইউরিয়া  ১০০% নিম কোটেড করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি বিএডিসির মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মো. নাসিরুজ্জামান মহোয়দয় অবহিত হন এবং এ বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই আলোকে পাবনার টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৭-১৮ আউশ মৌসুমে  নিম কোটেড ইউরিয়া সারের ব্যবহারের মাধ্যমে ধানের ফলন বৃদ্ধির বিষয়টি জানার জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মেথোড এবং মেথোডেলজি : পরীক্ষাতে মোট চারটি ট্রিটমেন্ট এবং তিনটি রেপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়েছে। আরসিবিডি পদ্ধতিতে  পরীক্ষাটি স্থাপন করা হয়। পরীক্ষার কাজে ব্রিধান -৪৮ জাত ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষাতে ব্যবহৃত ট্রিটমেন্টগুলি ছিল : ট্রিটমেন্ট নং১= কোন ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়টি (কন্ট্রোল)। ট্রিটমেন্ট নং-২= ১০০% সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে (ট্রাডিশনাল পদ্ধতি)। ট্রিটমেন্ট নং-৩=১০০%  নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে এবং ট্রিটমেন্ট নং-৪=মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়ার ৮৫% নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যব্যহার করা হয়েছে।

বীজতলায় ধান বীজ ফেলা হয় গত ১৬/৫/১৭ তারিখে এবং মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় ১০/৬/১৭ তারিখে। প্রতি গোছাতে ২/৩টি করে চারা রোপণ করা হয়। চারা থেকে চারার দূরত্ব রাখা হয় ২০ সেন্টিমিটার এবং লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব রাখা হয় ২০ সেন্টিমিটার। পরীক্ষার প্লটের আকার রাখা হয় ২০ বর্গ মিটার। নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ, সারফার, এবং দস্তা সার মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। কন্ট্রোল ট্রিটমেন্ট (ট্রিটমেন্ট নং-১) বাদে সকল ট্রিটমেন্টের প্লটে সমান দুই কিস্তিতে ইউরিয়া সার প্রদান করা হয়।  প্রথমবার ইউরিয়া প্রদান করা হয় ১৭/৬/১৭ তারিখে এবং দ্বিতীয়বার প্রদান করা হয় ৬/৭/১৭ তারিখে। ধান চাষের অন্যান্য সকল পরিচর্যা সকল ট্রিটমেন্টেই স্বাভাবিকভাবে করা হয়েছে। ধান কাটা হয়  ১৩/৯/১৭ তারিখে। ৫.০বর্গমিটার জমির ফসল কর্তন (১২৫টি গোছা) করে ডাটা সংগ্রহ করা হয়। ধান ২ দিন রোদে শুকিয়ে তারপর ১২% অর্দ্রতায় সমন্বয় করে হেক্টরে ফলনের বিষয়টি হিসাব করা হয়। পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলের ডাটা নীচে উপস্থাপন করা হলো।

পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, যে ট্রিটমেন্টে (ট্রিটমেন্ট নং-৩) ১০০% নিম কোটেড ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে ট্রাডিশনাল পদ্ধতির (ট্রিটমেন্ট নং-২) চাইতে ১২.৩৯% ধানের ফলন বেশী হয়েছে। এর কারণ হতে পারে যে, নাইট্রোজেন ছাড়াও অন্যান্য সার বিশেষ করে ফসফরাস এবং পটাশসহ অন্যান সারের ব্যবহারের দক্ষতাও বেশী হয়েছে। আবার যে ট্রিটমেন্টে মাটিতে দুইবারে ৮৫% নিম কোটেড ইউরিয়া (ট্রিটমেন্ট নং-৪) ব্যবহার করা হয়েছে ট্রাডিশনাল পদ্ধতির তুলনায় (ট্রিটমেন্ট নং-২) ৯.১৪% ধানের ফলন বেশী হয়েছে। এই ট্রিটমেন্ট থেকে বিষয়টি পরিস্কারভাবে বোঝা যায় যে, নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ধান চাষের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সারের ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই ১৫% ইউরিয়া সার কম ব্যবহার করেও ধান চাষ করা সম্ভব হয়েছে। আর ফসফেট পটাশসহ অন্যান্য সারের ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে ধানের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। পরীক্ষার ডাটা বিশ্লেষণে দেখা যায় ধানের ফলনের অধিকাংশ প্যারামিটারও নিমকোটেড ইউরিয়ার ট্রিটমেন্ট দুইটিতে (ট্রিটমেন্ট নং-৩  এবং ট্রিটমেন্ট নং-৪) আশানুরূপভাবে পজেটিভ।

লাভ ক্ষতির হিসাব: যেহেতু ট্রিটমেন্ট নং-২ (ট্রাডিশনাল পদ্ধতি) তুলনায়  নিম কোটেড ইউরিয়া ১০০% ব্যবহার যুক্ত ট্রিটমেন্ট নং ৩ এর ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৩৯% সুতরাং একই খরচে ১২.৩৯% অধিক ধান পাওয়া গেলে তা অবশ্যই লাভজনক হবে। আবার ট্রিটমেন্ট নং-২ ( ট্রাডিশনাল পদ্ধতি) তুলনায় নিমকোটেড ইউরিয়া ৮৫% ব্যবহার যুক্ত ট্রিটমেন্ট নং-৪ এর ক্ষেত্রে ১৫% কম ইউরিয়া ব্যবহার করে ৯.১৪% ধানের ফলন বেশী পাওয়া গেছে। সুতরাং এই ট্রিটমেন্টের মাধ্যমেও ধান চাষ লাভজনক হবে।

উপসংহার: এই পরীক্ষাতে পরিস্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহার  করে টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারে ধান উৎপাদন করলে মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার ১৫% কম ব্যবহার করে ৯.১৪% অধিক ধান উৎপাদন করা সম্ভব এবং সমপরিমাণ ইউরিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে ১২.৩৯% ধানের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হতে পারে। এই পরীক্ষাতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, নিমকোটেড ইউরিয়া সারের মাধ্যমে ধান চাষ করলে ইউরিয়া সারের ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় বলে কিছু কম পরিমান ইউরিয়া (১৫%) ব্যবহারের মাধ্যমে ধান চাষ করা সম্ভব এবং সমপরিমাণ ইউরিয়া ব্যবহার করলে নাইট্রোজেন ছাড়াও ফসফরাস,পটাশের এবং অন্যান্য সারের ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। সুতরাং ধান উৎপাদনের নিম কোটেড ইউরিয়া ব্যবহার করতে পারলে সবদিক থেকেই লাভজনক হবে। ধান চাষে নিম কোটেড ইউরিয়ার ব্যবহার মাটি এবং পরিবেশের জন্য ভালো বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ অধিক ইউরিয়া সারের ব্যবহারের মাধ্যমে মাটি, পানি এবং পরিবেশ অধিক মাত্রায় দুষিত হয়ে থাকে বলে আমরা সকলেই জানি।

পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হয় কিনা তা এই পরীক্ষাতে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ধান কাটার সময় ট্রিটমেন্ট নং-১ ব্যতীত অন্যান্য তিনটি ট্রিটমেন্টের প্লটের ( ট্রিটমেন্ট নং-২, ট্রিটমেন্ট নং-৩ এবং ট্রিটমেন্ট নং-৪) ধানের মধ্যে বাহ্যিকভাবে তেমন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি। পরীক্ষাটি আসন্ন বোরো মৌসুমে এবং আগামী আমন মৌসুমে বিএডিসি’র বিভিন্ন খামারে সম্পাদন করে এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে। পরবর্তী পরীক্ষাতে ব্রি’র প্যাথলজি এবং এন্টোমলজি বিভাগের বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

অন লাইন থেকে প্রাপ্ত নিমকোটেড ইউরিয়া ব্যবহারের সুবিধা বিষয়ে এবং এর সম্প্রসারণের জন্য সম্প্রতি ভারত সরকারের কিছু কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলো। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে ভারত সরকার এ বিষয়ে কতটা গুরুত্ব প্রদান করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ভারতে এসময়ে যে ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার একটা বড় অংশ নিমকোটেড যুক্ত এবং বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় ভারতে ব্যবহৃত ইউরিয়া ১০০% নিম কোটেড এর আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে দেশেরে সরকার সচেষ্ট রয়েছেন।

লেখক পরিচিতি: ১. যুগ্ম পরিচালক (সার ), সার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিএডিসি, রাজশাহী; .উপ পরিচালক (খামার), টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামার, বিএডিসি,পাবনা।

 

This post has already been read 1014 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN