৬ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ২৪ জমাদিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

দাবি আদায়ে এবার রাজপথে পাটকল শ্রমিকদের সন্তানেরা

Published at জানুয়ারি ২, ২০২০

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : এবার দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে খুলনায় আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের সন্তানরা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন চলছে। টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা।

তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে বাবারা যখন দাবি আদায়ে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তখন ঘরে বসে থাকতে পারেনি তারা। তাই দাবি আদায়ে গতাকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তায় নেমে মিছিল করে পাটকল শ্রমিকদের সন্তানরা।

এ সময় তারা ‘আমি শ্রমিকের সন্তান, আমার বাবা না খেয়ে মরতে বসেছে, আমার বাবাকে বাঁচাও’, ‘পাট শিল্প ধ্বংস হলে সোনার বাংলা ধ্বংস হবে’ ইত্যাদি স্লোাগান দেয়।

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নুর ইসলামের কলেজ পড়–য়া জুয়েল বলেন, আমার বাবা দাবি আদায়ে অনশন করছে। পাঁচদিন না খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের ঘরেও তেমন কিছু নেই। কাচিং এর টাকা আমার অন্য বন্ধুরা পরিশোধ করেছে। কিন্তু আমি তা করতে পারিনি। যার কারনে লজ্জায় কোচিং এ যেতে পারছি না আমার পড়াশোনা সহ খাওয়া দাওয়া সবদিক থেকেই বর্তমানে আমরা খুব খারাপ অবস্থায় পার করছি।

তার মতো একই কথা বলে ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আবুল কালামের ছেলে আরিফুর রহমান কচি, খালিশপুর জুট মিলের হাবিবের মেয়ে তানহা। তারাও দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে।

এদিকে পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা ও বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাটকল খুলনায়। খুলনার সাতটি পাটকলে প্রাায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিটি কলেই শ্রমিকদের মজুরি ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ বকেয়া পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এ পরিস্থিতিতে তাদের জীবনযাপন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্র্যাাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বিমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট ক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। কিন্তু দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল বাদে বাকি ৭টি পাটকলের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিকটন। সেখানে চালু থাকা ওই দু’টি পাটকলে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিকটন । পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন বলেন, ৭টি পাটকলের প্রায় ২০ হাজার স্থায়ী শ্রমিক এ অনশনে অংশ নিয়েছেন। টানা অনশনে প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা শরীরে স্যালাইন নিয়েই স্ব স্ব মিলের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

This post has already been read 297 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN