৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

গোবর সংরক্ষণে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে চেম্বার পদ্ধতি

Published at জুন ২৪, ২০১৯

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয় (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে চেম্বার পদ্ধতিতে গোবর সংরক্ষণ। এ পদ্ধতিতে গোবর সংরক্ষণ করে জমিতে ব্যবহারের ফলে ফলন ভালো হাচ্ছে। পাশাপাশি অন্যত্র বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এখানকার কৃষকেরা। এজন্য এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে এ গোবর সংরক্ষণ পদ্ধতি। উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের আংগিয়াদি ব্লকের খামা, দাওরাইট ও আংগিয়াদীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে এ পদ্ধতি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকেরা উৎসাহ নিয়ে এ পদ্ধতিতে গোবর সংরক্ষণ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভালো ফলন পেতে কৃষকেরা তাদের জমিতে জৈব সার ব্যবহার করে থাকেন। এসব জৈব সার যত্রতত্র ভাবে ফেলে রেখে জমিতে ব্যবহার করা হতো। এভাবে গরুর গোবর ও বসতবাড়ির উচ্ছিষ্টাংশ যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ নোংরা হতো। দেখতেও বিশ্রি লাগতো। এসব পঁচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতো। এতে গোবরের কার্যকারিতাও প্রায় ৫০% নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু চেম্বার পদ্ধতিতে গোবর ও উচ্ছিষ্টাংশ সংরক্ষণ করে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার উৎপাদন করা যায়। এতে এক দিকে যেমন পরিবেশ ভালো থাকছে। অপরদিকে শতভাগ জৈব সারও উৎপাদন হচ্ছে। এতে কৃষকেরা তাদের জমিতে ব্যবহারে ভালো ফলন পাচ্ছেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহারও অনেক কম হচ্ছে।

এছাড়া জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়তি সার অন্যত্র বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন কৃষকেরা। বসতবাড়ি সংলগ্ন বা যে কোনো জায়গায় ১.৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ১.৫০ মিটার প্রস্থ এবং এক মিটার গর্ত করে ডাবল চেম্বার তৈরি করা হয়। গর্তের চারপাশে আইল বেঁধে ও উপরে চালা দিয়ে গোবর ও বসতবাড়ির উচ্ছিষ্টাংশ সংরক্ষণ করতে হয়। এতে ভিতরে পানি প্রবেশ ও রোদ লাগতে পারে না। এভাবে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার উৎপাদিত হয়। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত সার জমিতে ব্যবহারে মাটি নরম হয়। ফসল উৎপাদন ভাল হয়। মাটির পিএইচ মান নিয়ন্ত্রণ রেখে মাটিতে অনুজীবের কার্যাবলী বৃদ্ধি করে। মাটিকে ঠান্ডা ঝরঝরে রাখে ও শিকড় বৃদ্ধি করে। মাটিতে উপকারি জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ সারের কার্যকারিতা ৬-১৮ মাস পর্যন্ত মাটিতে বজায় থাকে। যা গাছ ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে পারে। অন্যান্য সারের কার্যকারিতাও বাড়িয়ে দেয়। এঁটেল মাটিকে দো-আঁশ ভাবাপন্ন করে তোলে। মাটির পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে সেঁচের অপঁচয় কম হয়।

উপজেলার খামা গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে গোবর সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে। যাদের বাড়িতে বেশি পরিমাণে গরু রয়েছে তারা দু’য়ের অধিক চেম্বার করে গোবর সংরক্ষণশালা তৈরি করেছেন। এ গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া ১০ চেম্বার বিশিষ্ট গোবর সংরক্ষণশালা তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। যা অন্যান্য কৃষকেরা অনুসরণ করে ৬ চেম্বার/৮চেম্বার বিশিষ্ট গোবর সংরক্ষণশালা তৈরি করছেন। এতে তারা নিজেদের জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যত্র বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।

বাবুল মিয়া বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ ভাইয়ের পরামর্শে ১০চেম্বার বিশিষ্ট গোবর সংরক্ষণশালা তৈরি করি। এখন একটি একটি করে প্রতি গর্ত ভরাট করে শেষ প্রান্তে যেতে যেতে আমার প্রথম চেম্বার সার জমিতে ব্যবহারের উপযোগি হয়ে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছি। কৃষক বাবুল মিয়ার মতো এ গ্রামের সুজন, জালাল, নিজাম ও চামরাইট গ্রামের হাদিউল, শাহজাহানসহ অনেকেই এ পদ্ধতিতে সার উৎপাদন করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ বলেন, এ পদ্ধতিতে গোবর সংরক্ষণ করলে পঁচনকারী ব্যাকটেরিয়া/অনুজীব সুস্থ্য থাকে। যা পঁচন ক্রিয়াকে ত্বরাম্বিত করে। এতে অনান্য সারও খুব কম লাগে। সকল কৃষকেরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার একেবারেই কমে যাবে।

This post has already been read 255 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN