৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১ রবিউল-আউয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

গাভীর ওলান ফোলা রোগ: দুগ্ধ খামারের প্রধান অন্তরায়

Published at নভেম্বর ১, ২০১৯

ওলান ফোলা রোগে আাক্রান্ত গাভী

ডা. এইচ এম সাইদুল হক : গাভীর ওলানের গ্লান্ডুলার তন্তুর প্রদাহতে ওলান ফোলা বা ওলান পাকা বা ঠুনকো রোগ বলা হয়ে থাকে। আরো বিস্তারিতভাবে বললে গাভীর ওলানের স্তন্যগ্রন্থিনালী , দুধ সংরক্ষণনালি, দুগ্ধ গহ্বর ও দুগ্ধনালীর অধঃস্থ শুন্যস্থান রোগজীবাণু দ্বারা বিশেষ করে অণুজীব (bacteria) ও ছএাক (fungus) দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করলে তাকে ওলান ফোলা বা প্রদাহ বলে। এক বিয়ানের অধিক (multiparous) গাভীতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায় এবং বাচ্চা প্রসবের ২-৩ মাসের মধ্যে গাভী আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগ প্রাণী , পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা, মানুষ এবং রোগ জীবাণুর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এ কারণেই দুধ প্রদানকারী গাভীই সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে ডেইরী খামারে এ রোগ দারুন সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।

কারণ: বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫৫ প্রকারের ব্যাকটেরিয়া, ২৬ প্রকারের ছত্রাক বা মোল্ড ও আরো নানাবিধ কারণে ওলান ফোলা রোগের সংক্রমণ ঘটে থাকে।

ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ: সাধারণত নিম্নলিখিত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ ঘটে থাকে: Streptococcus agalactiae, Strep.albus, Strep.dysagalactiae, Strept.faecalis, Staphylococcus epidermis, Staph. Aureus, E coli, Corynebacterium pyogenes, Camphylobactor jejuni, Mycobacterium uberis, Pasteurella multocida.

মাইকোপ্লাজমাঘটিত সংক্রমণ: Mycoplasma bovis, Myco. Candadensis

ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ: Aspergillus fumigatus, Candida albicans

উল্লেখিত জীবাণুসমূহ ছাড়া ও অন্যান্য কারণ যেমন- কোন ধরনের আঘাতের ফলে এরুপ প্রদাহ হতে পারে যা ওলানের একটি বা সকল অংশে বিস্তৃত হতে পারে। আঘাতের প্রকৃতি বা স্থায়িত্বকালের ওপর প্রদাহের মাত্রা বা ভয়াবহতা নির্ভর করে। ওলানে আঘাতপ্রাপ্তির কারণে (যেমন কোন বস্তু বা পর্দাথ দ্বারা আঘাত, বাছুরের দাতেঁর কামড়জনিত ক্ষত ইত্যাদি) উক্ত অংশের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে এ রোগ বিস্তারে সহায়তা করে বা করতে পারে।

রোগ লক্ষণ: এ রোগ গাভীর একক বা সমষ্টিগতভাবে শারীরিক, রাসায়নিক বা অণুজীবঘটিত পরির্বতন সাধন করে। জ্বর, ক্ষুধামন্দা অবসাধগ্রস্থতা ইত্যাদি লক্ষণ সাধারণত লক্ষ্য করা যায়। এ রোগে ওলান লালচে ও স্ফীতাকার হয়। গাভীর পিছনের পা দুটো ছড়ানো অবস্থায় থাকে। ওলানে হাত দিলে গরম অনুভূত হয় এবং গাভী ওলানে হাত দিতে দেয় না। শরীরের তাপ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাথার কারণে গাভী শুতে পারে না। দুধের রং হলুদ পুজেঁর মত দেখায় এবং পরর্বতীতে রক্ত মিশ্রিত ও দুর্গন্ধযুক্ত দুধ নির্গত হয়। রোগের পরিপক্ক অবস্থায় বাটগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং দুধ বের হয় না। এক পর্যায়ে বাটে পচন ধরে, বাট ঠাণ্ডা হয়ে যায় ও পচেঁ খসে পড়ে। মারাত্মক অবস্থায় পৌঁছে গেলে পশুর মৃত্যু হয়।

ওলান ফোলা রোগে রক্ত মিশ্রিত নির্গত দুধ

রোগ নির্ণয়:

১. ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা: রোগের লক্ষণ ও ওলানের অবস্থা দেখে রোগ প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা  যেতে পারে। রোগাক্রান্ত গাভীর দুধ উৎপাদনের পার্থক্য (আক্রান্ত হওয়ার  পূর্বের এবং  পরর্বতী পর্যায়ের), পালন ব্যবস্থা, দুধ দোহন  পদ্বতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইত্যাদির তথ্য পর্যালোচনা করে ও রোগের বিষয়ে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ওলান ও বাটের আয়তন, অবস্থান, আকৃতি এবং ওলান বা বাঁটে আঘাত বা ক্ষত পরীক্ষা করেও রোগের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

২. দুধের বাহ্যিক পরীক্ষা:  দুধের বর্ণের অস্বাভাবিকতা, দুধ পাতলা (দীর্ঘ মেয়াদি স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণে এরুপ হয়), দুধে পুঁজ থাকা (করাইনিব্যাকটেরিয়াম এর কারণে) ইত্যাদি লক্ষ্য করে  এ রোগ সন্দেহ করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, প্রসবের পর প্রথম ৮-১০ দিন পর্যন্ত রক্ত থাকতে পারে কিন্তু এর পরেও রক্ত থাকলে ওলান ফোলা রোগ সন্দেহ করা যায়।

আক্রান্ত দুধ (বামে), স্বাভাবিক দুধ (ডানে)

৩. স্ট্রিপ কাপ পদ্বতি: স্ট্রিপ কাপ একটি চ্যাপ্টা কালো এলুমিনিয়ামের পাত্র বিশেষ। স্ট্রিপ কাপ না থাকলে একটি কালো কাপড়ে দুধ ছেঁকেও এ পরীক্ষা করা যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথম অবস্থার দুধ পরীক্ষা করে দুধের রংয়ের পরিবর্তন, দুধে জমাট বাঁধা পদার্থ (Clot), ফ্লেকস্ ও পুঁজের উপস্থিতি পরীক্ষা করা যায়। চারটি বাঁটের দুধ পৃথকভাবে পরীক্ষা করে আক্রান্ত বাঁট সনাক্ত করা যায়।

৪. হোয়াইট সাইড টেষ্ট: এ পদ্ধতিতে একটি স্লাইডে আক্রান্ত বাঁটের ৫ ফোঁটা দুধের সাথে ২ ফোঁটা ৪% সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH 4%) নিয়ে টেস্টটি করা হয়। যদি দুধ স্বাভাবিক থাকে তবে ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে Homogenous turbidity সৃষ্টি হবে। যদি দুধে অতিরিক্ত পরিমাণ WBC থাকে তবে Fibrin-clot গঠন হবে যা সাব-ক্লিনিকাল ম্যাসটাইটিস নির্দেশ করে।

৫. ক্যালির্ফোনিয়া ম্যাসটাইটিস টেস্ট : দুধের শ্বেত কণিকা (somatic cell) নির্ণয়ের জন্য এ পদ্বতি ব্যবহার করা হয়। প্রথমে প্রতি টি বাঁট থেকে ২ মিলি করে দুধ নিয়ে র্পথকভাবে টেস্ট প্লেটের ৪টি ডিসে নিতে হবে। এবার এই দুধে ২ মিলি পরিমাণ রিএজেন্ট (এলকাইল অ্যারাইল সালফেট) নিয়ে বৃত্তাকার গতিতে বাকিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এ রিএজেন্ট দুধের শ্বেতকণিকা ও তার নিউক্লিয়াসকে ভেঙ্গে দেয় ফলে নিউক্লিয়াসের ডিএনএ বেরিয়ে আসে। এ ডিএনএ রিএজেন্টের সাথে যুক্ত হয়ে অধঃক্ষেপ পড়ে ও জমাট বাঁধা অবস্থার সৃষ্টি করে।

স্কোর শ্বেতকণিকার সংখ্যা      মন্তব্য
নেগেটিভ ০-২০০,০০০ নেগেটিভ
সামান্য অধঃক্ষেপ ২০০,০০০-৪০০,০০০ ৬% দুধ হ্রাস
৪০০,০০০-১,২০০,০০০ ১০% দুধ হ্রাস, আঠালো
১,২০০,০০০-৫,০০০,০০০ ১৬% দুধ হ্রাস , পিচ্ছিল
>৫,০০০,০০০ ২৪.৫% দুধ হ্রাস, জেলসদৃশ

ক্যালির্ফোনিয়া ম্যাসটাইটিস টেস্ট

ক্যালির্ফোনিয়া ম্যাসটাইটিস টেস্ট একটি সহজ, সাশ্রয়ী, দ্রত পৃথকীকরণ পদ্ধতি যার মাধ্যমে খুব সহজে আক্রান্ত বাটটি (Quarter) সনাক্ত করা যায়। যদিও এ পদ্ধতি দ্বারা চিকিৎসা পরবর্তী ফলাফল সমন্ধে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ, এটি শুধুমাত্র প্রদাহজনিত কোষের প্রতি সাড়া (Response) কে নিরুপণ করে।  তবে CMT অপ্রকাশিত ওলান প্রদাহ (Subclinical mastitis) এবং দীর্ঘমেয়াদি (Chronic) ওলান প্রদাহ নির্ণয়ে খুবই ফলপ্রসূ।

ওলান ফোলা রোগের আর্থিক ক্ষতি : খামারের গাভীর ওলান ফোলা রোগের ফলে, বিশেষ করে ডেইরী শিল্পের কী পরিমাণ ক্ষতি হয় হয় তা সঠিকভাবে নিরুপন করা কঠিন। তবে এ রোগে আক্রান্ত গাভীদের গড়ে শতকরা প্রায় ৭০% দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়, শতকরা ৭% দুধ বাতিল করা হয় এবং শতকরা ১৪% গাভীকে ছাটাই করা হয়। এছাড়া ঔষধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত খাতে শতকরা ৮% এবং আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যায়সহ এ রোগ দেশের প্রচুর ক্ষতিসাধন করে। আমেরিকায় প্রতি বছর এ রোগে আাক্রান্ত প্রতি গাভীর জন্য ৯০-২৫০ ডলার এবং বৃটেনে ২৯-৪০ পাউন্ড আর্থিক ক্ষতি হয়। হিসেব করে দেখা গেছে, এ রোগের ফলে মার্কিন যুত্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ইউ এস ডলার ক্ষতি হয়ে থাকে। জানা গেছে, তীব্র ওলান প্রদাহতে গাভী প্রতি মাত্র ৬০ দিনে গড়ে ১০০০ পাউন্ড কম দুধ উৎপাদিত হয়। উল্লেখ্য, যুত্তরাষ্ট্রে একটি গাভী জীবনে গড়ে ৭৫০০ কেজি দুধ দেয় যা পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে সর্ব্বোচ্চ। বৃটেনে প্রতি বছর ১০% এবং কানাডায় ১২% গাভী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

পক্ষান্তরে আমাদের দেশি একটি গাভী সমগ্র জীবনে গড়ে মাত্র ২৫০-৩০০ কেজি দুধ প্রদান করে থাকে যা পৃথিবীতে সর্বনিম্ন বলে ধারণা করা হয়। তারপরও শুধুমাত্র সাব-কিনিক্যাল ম্যাসটাইটিসের কারণে দুধ উৎপাদন কমার ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১২২.৬ মিলিয়ন টাকা ক্ষতি হয়।  আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ রোগের ফলে প্রতি বছর গড়ে ৭০ কোটি রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়

চিকিৎসা: যুত্তরাষ্ট্রে ২০০২ সালে একটি পরিসংখ্যান হতে (USDA, NAHMS) দেখা যায় ২৭ ভাগ ক্ষেত্রে ওলান প্রদাহের জন্য দুগ্ধবতী গাভী খামার হতে বাতিল করতে হয়। এছাড়া প্রজননতন্ত্রের এুটির জন্য ২৬ ভাগ, উৎপাদন হ্রাসজনিত কারণে ১৯ ভাগ, খোড়াজনিত সমস্যায় ১৫ ভাগ বাতিল করতে হয়।

উক্ত পরিসংখ্যান হতে প্রতীয়মান হয় যে, ওলান প্রদাহ ডেইরী শিল্পে কতটুকু গুরুত্বর্পূণ। এ রোগে বাঁটের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে টিট সাইফন (Teat syphon) দ্বারা বাঁটের মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে। বাঁটের দুধ বের হতে না চাইলে মাংসপেশীতে অক্সিটোসিন হরমোন ইনজেকশন দিতে হবে।  আক্রান্ত বাঁটের দুধ বের করে এন্টিবায়োটিক টিউব সরাসরি বাঁটে দিতে হবে। গাভীর দেহে জ্বর থাকলে মাংসে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন যেমন- Bipen vet/ Panbacllin, Strepto P/ Dexa SP দিতে হবে। ওলানে তীব্র ব্যথা থাকলে মাংসে ব্যথানাশক ইনজেকশন যেমন- Kop vet, Fortis, Tolfedine CS ইত্যাদির যে কোনটি দিতে হবে।

বাঁটে ওষুধ প্রয়োগ

এছাড়া ও ১০০০-৫০০০ মিলি ৫% ডেক্সট্রোজ স্যালাইন শিরায় ইনজেকশন দেওয়া ভালো। তবে শরীরের তাপ বেশি (১০১ ডিগ্রীর উপরে) ডেক্সট্রোজ স্যালাইন এর পরির্বতে ১-৫ লিটার ০.৯% সাধারণ স্যালাইন শিরায় ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। আক্রান্ত ওলান গরম ও ফোলা থাকলে এবং ব্যথাযুক্ত হলে প্রথমে বরফ বা ঠাণ্ডা পানি আক্রান্ত ওলানে ঢালতে হবে। দেহের তাপমাত্রা বেশি বেড়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে গাভীর শরীর ধুয়ে দিতে হবে। ওলান শক্ত হয়ে গেলে কর্পুর গুঁড়ো করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বাঁটে লাগাতে হবে (দেহে জ্বর থাকলে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে এটা ভালো কাজ করে না। কিন্তু রোগের প্রাথমিক অবস্থায় এতে ভালো উপকার হয়)। খামারে রোগ দেখা দিলে অসুস্থ গাভীকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে আক্রান্ত গাভীদের ওলান ফোলা রোগের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মত ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগাক্রান্ত গাভীর সুষ্ঠ চিকিৎসার পরও সুফল না পেলে র্ফাম থেকে সংশ্লিষ্ট গাভীকে বাতিল করে দিতে হবে।

প্রতিরোধের উপায়:

১. দুধ দোহনের পূর্বে হাত ও ওলান জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। দুগ্ধবতী গাভীকে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে। দুগ্ধবতী গাভীর ওলান যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। দোহনকারীর হাত, দুধ দোহনের যন্ত্রপাতি এবং গাভীর ওলান ও বাঁট জীবাণুনাশক দ্রবণ দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে মুছে দুধ দোহন করতে হবে।

২. ৪% ক্লোরিনের, ০.৫% ক্লোরোহেক্সিডিনের অথবা ৫০০০ পিপিএম এর আয়োডিনের দ্রবণ দ্বারা প্রতিটি বাঁট পরিষ্কার করে দোহনের আগে ও  পরের  জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৩.  দুধ দোহনের পর গাভীকে খাবার দিতে হবে। কেননা দুধ দোহনের পর হতে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত  বাঁটের মুখ (teat cannel) খোলা থাকে বিধায় অতি সহজে জীবাণু এ সময় বাঁটের মুখের মাধ্যমে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। যেহেতু খাবারের সময় গাভী দাড়িয়ে খাদ্য গ্রহণ করে সেহেতু এ সময়ে ওলানের বাঁট গোয়াল ঘরের মেঝের সংর্স্পশে আসার সম্ভবনা থাকে না।

৪. গাভীর সেডে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।

৫. গাভীর দুধ ঘন ঘন দোহন করতে হবে (দৈনিক ৩-৪ বার)। দোহনের পূর্বে প্রতিটি বাঁট টেনে দু এক ফোঁটা দুধ বের করে ফেলে দিয়ে, বাঁটগুলি ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় অথবা তোয়ালে দিয়ে মুছতে হবে।

৬. ৩-৫ বার ওলান প্রদাহে আক্রান্ত গাভীকে খামার থেকে ছাঁটাই করতে হবে।

৭. প্রথমে প্রথম বাচ্চাদানকারী গাভীর দুধ দোহন করে পরবর্তীতে সুস্থ ও ভালো গাভী  এবং পরে চিকিৎসা শেষে সদ্য রোগমুত্তিপ্রাপ্ত এবং সর্বশেষে আক্রান্ত গাভীর দুধ দোহন করা ভালো।

৮. গাভী বাচ্চা প্রসব পরর্বতী ১৫ দিন ওলান ফোলা রোগ হওয়ার প্রার্দুভাব থাকে। সুতরাং বাচ্চা প্রসব পরর্বতী ১৫ দিন গাভীকে শুকনো খড়ের বিছানা করে দিতে হবে, যাতে রাতে গাভী শুয়ে থাকলে ওলান খড়ের উপরে থাকে। সকালে উক্ত খড় রোদে রেখে গরম করে তারপর আবার রাতে রাখতে হবে।

This post has already been read 486 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN