১১ মাঘ ১৪২৭, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২ জমাদিউস-সানি ১৪৪২
শিরোনাম :

খুলনার দশ খাদ্য গুদামে চালের মজুদ অর্ধেকে নেমেছে

Published at ডিসেম্বর ৩০, ২০২০

ফকির শহিদুল ইসলাম (খুলনা) : বাজারে চিকন চালের দাম এখন প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) ৩২০০ টাকা থেকে ৩৪০০ টাকার মধ্যে, যা সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যে সর্বোচ্চ। খুচরায় প্রতিকেজি সরু চালের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৬৬ টাকার মধ্যে। সরু চালের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঝারি ও মোটা চালের দামও বেড়েছে। খুচরায় প্রতিকেজি সরু চালের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৬৬ টাকার মধ্যে। সরু চালের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঝারি ও মোটা চালের দামও বেড়েছে। ৩২-৩৩ টাকার মোটা চাল ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২৩ ডিসেম্বরের যে তথ্য দেওয়া আছে, তাতে সরকারি গুদামগুলোতে মোট ৭ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। এর মধ্যে চাল ৫ দশমিক ৪২ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ২ দশমিক ৪ লাখ মেট্রিক টন। চালের মজুদের এই পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

খুলনা জেলার দশ গুদামে ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ মে: টন। সেখানে মজুদ ১৪ হাজার ৭৫ মে: টন। নিয়মিত বাহিনী ও ভিজিডির চাল দিতে হলে দু’মাস পর মজুদ শূন্যের কোটায় নামবে। খাদ্য দপ্তরের দাবী সরকারী গুদামের মজুদ শুন্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই।  মজুদ থাকা অবস্থায়  ২০২১ সালের প্রথম মাসেই ভারত থেকে চাল এসে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মার্চ মাস থেকে করোনার ভয়াবহতা শুরু হয়। ফলে উপজেলা পর্যায় কৃষক সরকারি গুদামে চাল পৌঁছাতে পারেনি। ধান না পাওয়ায় সরকারে সাথে করা চুক্তি মিল মালিকরা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এছাড়া লকডাউনের সময় শ্রমজীবী মানুষের কাছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা দরে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিক্রি করতে হয়। ফলে মজুদ ফুরাতে থাকে। গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে জেলার খাদ্য গুদামগুলোতে ৫৯ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন চাল ও ৫৯ হাজার ২৩৯ মেট্রিক টন গম মজুদ ছিলো। এ বছরের ৩০ জুন চাল মজুদের পরিমাণ ২৯ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আর গম মজুদ ১০ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন। ২৩ অক্টোবর ২৬ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ ছিলো। জেলা খাদ্য অফিসের ২৫ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী চাল মজুদের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন। গম গুদামজাত আছে ৪ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, ফায়ার ব্রিগেড ও কারাগারের জন্য প্রতি মাসে ৭শ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করতে হয়। ফলে মজুদকৃত চাল দু’মাসের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। খুলনা বিভাগের ৭১টি খাদ্য গুদামে ৫৭ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন চাল এবং ৫১ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন গম মজুদ আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের দশ জেলায় প্রতি মাসে নিয়মিত বাহিনীর জন্য ৫ হাজার মেট্রিক টন ভিজিডির জন্য ৩ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন এবং ১০ টাকা কেজির জন্য ১৮ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন চালের প্রয়োজন হয়। মজুদ বাড়াতে আমন সংগ্রহ মৌসুমে ১৩৫ মিল মালিকের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় ১১ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ১ হাজার ৪শ’ মেট্রিক টন আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। সংগ্রহ অভিযানের ফলাফলও আশাব্যঞ্জক নয়।

এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় খাদ্য চলাচল ও সংরক্ষণ বিভাগের সহকারি উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুস সোবাহান জানান, বিভাগে আপাতত চালের ঘাটতি নেই। আপদকালিন মজুদ গড়ে তোলা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমন সংগ্রহ অভিযান চলবে। এছাড়া ভারতের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি করা হয়েছে। সরকারি ভাবে চুক্তির কেনা ভারতীয় চালের প্রথম চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌছাবে জানুয়ারি নাগাদ। এ বন্দরে আসা চাল রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন গুদামে যাবে। সরকারি খাদ্যগুদামে মজুদ বৃদ্ধি ও খোলা বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভারত থেকে এক লাখ মেট্রিকটন চাল ক্রয় করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ পর্যায়ক্রমে মোংলা বন্দরে আসবে।

এছাড়াও আপাতকালীন মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার কোনক্রমেই খাদ্যগুদামে চাল ও গম শূন্য হতে দেবে না। বিভাগের ১০ জেলায় আপাতত চালের কোন ঘাটতি নেই। বিভাগের ৭১টি গুদামে ৫৭ হাজার ৪২২ মেট্রিকটন চাল মজুদ রয়েছে। আমনের ৩৩ হাজার চাল সংগ্রহের জন্য মিলারদের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। খোলা বাজারে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে খুলনাসহ চারটি বিভাগীয় শহরে ওএমএস চালুর করার চিন্তা ভাবনা চলছে। তিনি জানান, সরকার বেসরকারি পর্যায়ে সীমিত পরিমাণ চাল আমদানি করার অনুমতি দেবে। থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে দাম কম হলে আমদানিকারকরা সেসব দেশ থেকে চাল আমদানি করতে পারবে।

সুত্রমতে,বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে আমদানি করা ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও এক লাখ টন চাল একই পদ্ধতিতে ভারত থেকে দেশে এসে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে ভারতের বাইরেও অন্য দেশ থেকে চাল আমদানি করে সরকারি মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আর এসব আমদানিকৃত চাল সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবহার করে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো হবে। এতে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে সরকার বাজারের চালের মুল্য স্বাভাবিক রাখতে চালের  বর্তমান আমদানি শুল্ক  ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২৩ ডিসেম্বরের যে তথ্য দেওয়া আছে, তাতে সরকারি গুদামগুলোতে মোট ৭ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। এর মধ্যে চাল ৫ দশমিক ৪২ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ২ দশমিক ৪ লাখ মেট্রিক টন। চালের মজুদের এই পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

This post has already been read 435 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN