২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
শিরোনাম :

আসছে সাতকরা চা

Published at নভেম্বর ১৪, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সম্পর্কে যারা জানেন তারা সাতকরা সম্পর্কে জানেননা এমন লোক দেশে পাওয়া দুষ্কর। লেবু জাতীয় এ ফলটি সিলেটে খুবই জনপ্রিয়। তবে সিলেট ছাড়াও আস্তে আস্তে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছেও ফলটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। সিলেটে সাতকরা বিভিন্ন বড় মাছ, ছোট মাছ ও মাংস দিয়ে রান্না করা হয়। সাতকরার বুকের টক অংশসহ ছোট মাছ বা বড় মাছ দিয়ে রান্না করা হয় টেংগা বা খাট্টা। তবে নতুন একটি খবর হলো, সিলেটের এই ফলটি দিয়ে তৈরি করা হবে চা এবং সেই চা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হব। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘নিউ সমনবাগ’ চা বাগানের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান আকন্দ এ চা উদ্ভাবন করেছেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি এর পরামর্শ ও উৎসাহে দীর্ঘদিন গবেষণার পর তিনি এ চা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

সাতকরা চা’র উদ্ভাবক মো. শাহজাহান আকন্দ।

মো. শাহজাহান আকন্দ জানান, চা পাতার সাথে সাতকরার মিশ্রণ ঘটিয়ে এই চা তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা কমলা রঙের দেখতে এই চা সুগন্ধি ও সুস্বাদু। বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে এই চায়ের মোড়কও ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে।

তিনি জানান, এই চা তৈরি ব্যয়বহুল হলেও এটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে। প্রতি কেজি চায়ের খুচরা মূল্য পড়বে প্রায় ১৫০০ টাকা। চা আস্বাদনকারীদের চাহিদা ও জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে সাতকরা ও চা পাতা একত্রে ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে ৪/৫ মাস চেষ্টার পর তিনি সফল হন।

তিনি আরও জানান, চায়ে সাতকরা মিশ্রিত করার পর পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিসরে ফ্রেস (কাঁচা) সাতকরা ও ড্রাই সাতকরা চায়ের লিকার তৈরির সময় ইনফিউসড লিফের সাথে অথবা শুধু লিকারের সাথে মিশিয়ে টেস্ট করার বা স্বাদ নেয়ার পর দেখা যায়, ফ্রেস সাতকরা মিশ্রিত চায়ের স্বাদ ও গন্ধ লেবু দিয়ে তৈরি চায়ের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অধিক সুস্বাদু।

প্রথম চুমুকের পর শ্বাস-রন্ধ্রের ভেতর দিয়ে মুখের ভিতর একটা চমৎকার অনুভূতি পাওয়া যায়। যা অন্য যেকোনো প্রকার ভেল্যু এডেড চা থেকে এটি ভিন্ন।

সাতকরা মিশ্রিত চায়ের লিকার দেখতে মধ্যম উজ্জ্বল সোনালী রঙের। বিভিন্নভাবে টেস্ট করার পর দেখা যায়, খুব হালকা চিনি মিশ্রিত করলে স্বাদে একটু বৈচিত্র্য আসে। সাতকরা চায়ের লিকারে বরফ কিংবা ঠাণ্ডা করেও গরমকালে পানে অবশ্যই প্রশান্তি আসবে। সর্বোপরি এটি একটি উৎকৃষ্ট পিউর এরোমেটিক ন্যাচারাল ড্রিংকস। তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই।

সাতকরা চায়ের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বৃষ্টির পানি ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছ লিকার পাওয়া যায়, যা স্বাভাবিক চায়ে থাকে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ কেজি চা বাজারজাতকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই চায়ের ব্র‍্যান্ডিং নাম হবে “সাতকরা চা”। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে সর্বপ্রথম এই চা বাজারজাত করার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও এই চা ব্রিটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে জানা যায়।

This post has already been read 559 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN