২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৬ জুন ২০২০, ১৫ শাওয়াল ১৪৪১
শিরোনাম :

অস্বচ্ছল মেধাবীদের বৃত্তি দেয়ার সংখ্যা আরো বাড়াবে হোপস্

Published at ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারো বাবা বিছানায় শয্যাশায়ী, কারো বাবা রিকশাচালক, কেউবা আবার টিউশনি করে নিজেই নিজের খরচ চালায়, কারো দিনে একবার খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এ রকম বহু শিক্ষার্থীর সংগ্রাম ও হৃদয়স্পর্শী গল্প শোনা গেল মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি, ২০২০) রাজধানীর এসিআই সেন্টারে আয়োজিত ‘হোপস্ বার্ষিক সাধারণ সভা ও বৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানে। সমাজের অপেক্ষাকৃত নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান কিন্তু উচ্চ মেধা ও মননের বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটি-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছিলেন গতকাল। এসেছিলেন সমাজের উচ্চ অবস্থানে থাকা অপরের বিপদে পাশে দাড়ানো কিছু আলোকিত মানুষ যারা ঐসব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের দরিদ্র বা গরীব হিসেবে অভিহিত চাননি, বরং ‘ওরা মেধাবী ও শক্তিশালী’এটা বলতে চান তারা। এসেছিলেন সংগঠনের সাবেক স্কলারগণ যারা এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু ভুলে যাননি দুঃসময়ে হোপস্ এর অবদান।

সংগঠনের সাবেক স্কলার মো. ইসমাইল হোসেন পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াতের পর সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হোপস -এর সাধারণ সম্পাদক এবং প্যারাগন গ্রুপের পরিচালক মিসেস ইয়াসমিন রহমান। তিনি বলেন, বিগত ২৫ বছরের যাত্রায় হোপস্ অনেক দূর এগিয়েছে। ১৯৯৫ সন থেকে ২০২০ সন পর্যন্ত হোপস্ এ পর্যন্ত প্রায় ৫শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী পেয়েছে। হোপস্ এর মহতি প্রচেষ্টায় আপনাদের সবাকে কাছে পাওয়ায় আমরা আনন্দিত, উৎসাহিত এবং অনুপ্রানিত।

মিসেস ইয়াসমিন রহমান জানান, হোপস্ এ বছর ১২১ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করবে এবং ২০১৯ সনে ৬৬ জন হোপস্ স্কলার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। এ সময় তিনি হোপস্ স্কলারের কলেবর আরো বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এরপর সভায় আগত শিক্ষার্থীরা হোপস্ সম্পর্কে তাদের ব্যাক্তিগত অনুভূতি, কস্ট ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

মূল অনুষ্ঠানে শুরুর আগে হোপস -এর সভাপতি এবং এমেরিটাস প্রফেসর ড. এম. আফজাল হোসেন সাধারণ সভায় ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, হোপস্ এর সদস্য হওয়াতে তোমরা কোনভাবেই লজ্জা অনুভব করবেনা, বরং এটি তোমাদের জন্য গর্বের। তোমাদের জন্য গর্বের এজন্য যে, তোমরা সমাজের অপেক্ষাকৃত মেধাবী ও ভবিষ্যতের কান্ডারি।

তিনি আরো বলেন, হোপস স্কলারদেরকে ভবিষ্যতে সংগঠনের কান্ডারির দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখন থেকেই তোমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। কর্মজীবনে যেয়ে বর্তমানের কস্টটাকে মনে রেখে সৎ থাকার চেষ্টা করবে।

এসিআই লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সংগঠনের নির্বাহী সদস্য ড. এফএইচ আনসারী বলেন, হোপস এর বৃত্তি পাওয়া রীতিমতো গর্বের বিষয়। কারণ এখানে প্রকৃত মেধাবীদের বৃত্তি দেয়া হয়।

সভায় সংগঠনের আয়-ব্যায়ের হিসেব তুলে ধরেন কোষাধ্যক্ষ ড. রওশন আরা বেগম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য রাখেন বারি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. সোহেলা আখতার।

বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সারাদেশ থেকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর এম জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ড. রওশন আরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. গোলাম রাব্বানী, প্রফেসর ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, প্রফেসর ড. লুৎফুন হোসেন, প্রফেসর ড. ইকবাল মাহমুদ, আরমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, সোনিয়া লিমিটেড -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত উদ্দিন মো. কায়সার খান, পোলট্রি কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, ড. এম. এইচ রহমান হাফিজ, প্রফেসর ড. এম সোলায়মানন আলী ফকির, মনজুর এলাহী ছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং সাবেক স্কলারগণ।

উল্লেখ্য, হোপস (HOPES-Helping Organization for Promising and Energetic Students) মূলত অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক একটি সংগঠন যার কাজ হলো সমাজের আর্থিক সুবিধাবঞ্চিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারী কলেজে পড়া ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান।

This post has already been read 824 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN