৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২৩ জিলহজ্জ ১৪৪০
শিরোনাম :

অসাধু আমদানিকারক ও বন্দর জটিলতায় হুমকির মুখে দেশের মৎস্য খাত

Published at আগস্ট ৯, ২০১৯

মো. খোরশেদ আলম (জুয়েল): কিছু অসাধু আমদানিকারকের জন্য হুমকিতে পড়েছে দেশের আমিষ যোগানের অন্যতম উৎস মৎস্য খাত। বিশেষ করে দেশের মৎস্য চাষিদের ভরা এ মৌসুমে তারা পড়েছেন গুণগত মানের খাদ্য সংকটে। ব্যাপারটি এখন এমন পর্যায়ে যেয়ে ঠেকেছে যে, ‘পাপ গোটা কয়েকের কিন্তু শাস্তি সকলের’।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত গুটিকয়েক অসাধু আমদানিকারক ফিস ফিড নামে এমবিএম আমদানির  কারণে। মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের ‘ফিস ফিড’ নামে এসআরও নেয়া হলেও তারা এতদিন মূলত নিয়ে এসেছে নিষিদ্ধ মিট অ্যান্ড বোন মিল বা সংক্ষেপে যেটিকে এমবিএম বলা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে আটক হওয়া এসব পণ্যের বেশ কয়েকটি চালান ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। ফলে নড়েচড়ে বসেছে বন্দর কাস্টমস্ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ফলে কয়েক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোন এসব খাতের কোন পণ্যই এখন সহজে ছাড় করা হচ্ছেনা যা বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে বিপাকে পড়েছে মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত প্রকৃত আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাষিদের ওপর।

মাছের যেহেতু এখন ভরা মৌসুম তাই এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকৃত ফিড আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো পড়েছে মহা সংকটে। তাদের সাথে যুক্ত পরিবেশক ও মাছের খামারিরাও দিশেহারা। সংশ্লিষ্টদের দাবী, বিদেশ থেকে এমন কিছু মাছের বিশেষ ধরনের ফিড আমদানি করা হয় যা দেশে উৎপাদিত হয় না। বন্দর জটিলতার কারণে ওসব ফিড আমদানিকারকরা যেমন সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছেননা তেমনি মৎস্য চাষিরাও এখন চাহিদামাফিক সেগুলো পাচ্ছেনা। ফলে মাছের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে তারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বন্দর জটিলতার কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি জরিমানা। দেশের মানুষের পুষ্টির অন্যতম উপাদান আমিষের যোগানদাতা এ খাতটি পড়তে যাচ্ছে হুমকির মুখে। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে মৎস্য চাষিদের।

এরই প্রেক্ষিতে, বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার মৎস্যচাষি ও ফিস ফিডের পরিবেশকেরা বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) শম্ভুগঞ্জে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমদানিকৃত মাছের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা বা অনিয়মিত করায় চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এ সময় তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে ফিস আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবী, তারা আমদানি নীতিমালা, মৎস্য খাদ্য আইন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের অনাপত্তি পত্রের সকল শর্ত পূরণ করে আন্তর্জাতিক মানের মাছের খাদ্য আমদানি করছে এবং সেসবের মধ্যে এমন কিছু কিছু খাবার (ফিড) রয়েছে যেগুলো দেশে ‍উৎপাদন হয় না। শোল মাছ ও রপ্তানিযোগ্য বাগদা চিংড়ির খাবার এদের মধ্যে অন্যতম। এসব ফিড আমদানির ফলে দেশের মৎস্য চাষিরা এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। এমতাবস্থায় মৎস্য খাদ্য খালাসে কাস্টমস জটিলতায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তারা আরো জানান, ‘গুটিকয়েক অসাধু আমদানিকারকের দায় আমরা নিবো কেন?

মূলত বিদেশি উন্নতমানের মাছের খাবার (De heus, Sketing, Ocialis, Unipresident প্রভৃতি) আমদানিকারকদের পরিবেশকেরা খাবার (ফিড) সরবরাহ না পেয়ে মাছ চাষিদের চাপের মুখে পড়ে। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে মাছ চাষীদের নিয়ে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে চাষিরা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় খাদ্য সরবরাহ না থাকায় তারা ব্যাপক ক্ষতিরে মুখে পতিত হয়েছে। এক/দেড় মাস পড়ে তাদের মাছ বিক্রির সময় অথচ এ সময়ে ওসব খাবার না পেলে তাদের লোকসানের বোঝা বইতে হবে। আমদানি করা খাবারগুলোতে চাষিরা খু্বই সন্তুষ্ট এবং লাভবান হবার ব্যাপারে আশাবাদী এবং অতীতেও লাভবান হয়েছে বলে এ খাবারও তারা পরিবর্তন করতে চাচ্ছে না।

তাদের বক্তব্য, মানসম্পন্ন খাবার না পেলে রপ্তানিযোগ্য মাছ চাষ সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন মাছ চাষীরা।

This post has already been read 629 times!

Fixing WordPress Problems developed by BN WEB DESIGN